নাজনীন সরওয়ার কাবেরী যে কারণে এমপি হতে চান!!

FB_IMG_1537024708660.jpg

জাহেদ হাসান:

আমার দৃষ্টিকোণ থেকে কক্সবাজার এখনো পিছিয়ে আছে। স্থানীয় সরকার (চেয়ারম্যান, মেম্বার) তারা প্রত্যেকে জনগণের প্রতি সততা নিয়ে কাজ করেননি। ওই অঞ্চলে মোট ১২ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে শুধু রামুতেই আছে ৭ জন। প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ লোক উন্নয়ন বঞ্চিত- বলছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। রাজধানীর সেগুন বাগিচায় প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার সদর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেত্রী জানিয়েছেন তার স্বপ্নের কথা।

তিনি আরও বলেন, কিছু জনপ্রতিনিধির অসাধুতার কারণে সরকার এ এলাকায় বরাদ্দ ক্যানসেল করেছে। প্রকল্প থেকে উন্নয়ন করেনি বলেই দুদকেও চিহ্নিত। ৭টা ইউনিয়নের জনগণ আজ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। পূর্বে সরকার থেকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো তা ট্রান্সপারেন্ট হওয়া দরকার ছিলো। প্রশাসনিক নজরদারি ছিলো না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

কাবেরী বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখতে চাই। দেশকে সহযোগীতা করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চাই।

স্বপ্নের ডানায় ভর করে ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সৎ ও যোগ্য নেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে চান কাবেরী। কক্সবাজারের রামুর সমাজসেবক ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর মেয়ে কাবেরী স্বপ্ন দেখেন বাবার আদর্শে নিজেকে গড়ে তুলতে। বলেন- আমার বাবা সমাজসেবক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শতশত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বাবা মসজিদ, মন্দির নির্মাণ করেছেন। কিন্তু বাবার আদর্শ পরিপূর্ণতা পায় নাই। আমি চাই বাবার আদর্শ বাস্তবায়ন হোক। এখন ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠান করতে হয় না। সব সরকার করে দেয়। আমার বাবা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন। আমি বাবার মতো রাজনীতিবিদ হতে চাই। সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তো রাজনীতি। অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করার জন্যই আমার রাজনীতি। আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু।

সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়েও ভাবেন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার দৃঢ অবস্থান। তারুণ্যদীপ্ত এই নেত্রী বলেন, শোষণ এবং শোষক এই দুটো শব্দ যাতে কম ব্যবহৃত হয় তাই আমি একটা প্রজন্ম তৈরি করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর স্নেহতুল্য নাজনীন সরওয়ার কাবেরী যে আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সেই এলাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কক্সবাজারে এরইমধ্যে প্রতি সপ্তাহে খুন হয়েছে। এই এলাকা মাদকের জন্য সমালোচিত। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ী বলেন আর খুনী বলেন সবাই ক্ষমতাবানদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো খুনী যেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতা দখল করতে না পারে। মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে অবৈধ ব্যবসা করে যুব সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে। আমার প্রচেষ্টা থাকবে এসব বন্ধ করা। সরকার মাদকবিরোধী যে অভিযান শুরু করেছিলো তা যেন অব্যাহত থাকে। আর এ ধরণের অভিযান বন্ধ করতে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের যেন চিহ্নিত করা হয়। মোটকথা ইয়াবা আসক্তি থেকে যদি দেশকে বাঁচাতে পারি তাহলেই সফলতা আসবে।

মাদকের নির্মুলে তিনি অনড় থাকবেন বলেও জানান এই নেত্রী। আরো বলেন, আমি কক্সবাজারে ভ’মিদস্যুতা বন্ধ করেছি। অন্যায়ভাবে অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছি। আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা জানাতে চাই, কক্সবাজারের পাশে বাংলাদেশের সমান আরেকটি বাংলাদেশের সন্ধান পাওয়া গেছে যা সবাই জানে। কক্সবাজার সদরের নাজিরটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের বালিতে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের অন্তত ১৭ লক্ষ ৪০ হাজার টন খনিজ সম্পদ মজুদ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ আছে আমাদের কক্সবাজারে। এই প্রকল্প নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক মানোন্নয়ন হবে। বেকার সংস্থান হবে। আমি এই প্রকল্প ঘিরে স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি দেশের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে সেই স্বপ্নের কাছাকাছি নিয়ে যাবার।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক বছর আগে থেকে আমাকে ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। গত নির্বাচনেও আমাকে অংশ নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তখন আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। এখন আমি প্রস্তুত। আমি নিজেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য মনে করি। জনগণের প্রত্যেকের ভোটে আমি নির্বাচিত হবো। প্রধানমন্ত্রী সুবিবেচক। তিনি যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন অবশ্যই আমি মনোনয়ন পাবো। এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী। যদি মনোনয়ন বঞ্চিত হই তখন আমার জন্য আরো ভালো হবে। তখন আমি পুরো বাংলাদেশের শোষণের বিরুদ্ধে কাজ করবো। মাদার তেরেসা তো কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। তারপরও তিনি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। মাদার তেরেসা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমার আদর্শ।

কথা প্রসঙ্গে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী স্মৃতিচারণ করলেন তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে। জানালেন তার পরিবার ও রাজনীতিতে জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে। ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার জন্ম মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে। বাবা কক্সবাজার জেলার একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক। ছোটবেলা থেকেই আমি বাবার নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সারাদেশে কাজ করেছি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি চট্টগ্রাম কলেজে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছি হাতে পায়ে। আমার স্বামী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার জেলার সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনিও জাতীয় সংসদের একজন প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মরহুম আফসার কামাল চৌধুরী এর সুযোগ্য সন্তান। প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে গত ১২ বছর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রথমে সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পরে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মানুষের সেবা ও সংগঠনের কাজে লিপ্ত ছিলাম বিধায় জনগণের প্রত্যাশা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হবো বলে আশা করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট দূরদর্শী এবং সিদ্ধান্তদাতা। নেত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো এই বিশ্বাস।’

Top