নওগাঁর মান্দায় নকল সার ও কীটনাশক তৈরীর কারখানার সন্ধান, গ্রেফতার ১

Naogaon-News-Picture-Vejal-Sar-Karkhana-Shondhan15-09-2018-1.jpg

আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর বাজার এলাকায় একবছর ধরে চলমান বিভিন্ন নামী দামি কোস্পানির মোড়কে বাজারজাতকৃত নকল সার ও কীটনাশক তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভেজাল সার ও কীটনাশকসহ আরিফ (৪৮) নামের একজনকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত আরিফ হোসেন খুলনার খানজাহানআলী উপজেলার শিরোমনি উত্তরপাড়া এলাকার মৃত শওকত হোসেনের পুত্র। সংবাদ পেয়ে কৃষি অধিদপ্তর ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, তিনটি বাসা ভাড়া নিয়ে গ্রেফতারকৃত আরিফ হোসেনসহ আরো কয়েকজন মিলে একবছর ধরে কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। কারখানাটি বাজার থেকে একটু দুরে নির্জন এলাকায় হওয়ায় সেখানে কি তৈরি হচ্ছে এ বিষয়ে তারা অবহিত ছিলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কারখানাটির সামনে প্রতিনিয়ত ট্রাক ভর্তি করে বালু ও মাটি নিয়ে আসা হত। এগুলো দিয়ে কারখানার ভিতরে কি কাজ করা হত, সেটি তারা জানতেন না।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে শনিবার কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিপুল পরিমান উপকরণ ও সরঞ্জামসহ কারখানাটির মুলহোতা আরিফকে পাশের একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে কৃষি অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি কারখানাটির কার্যক্রম দেখে বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যান। কারখানাটির উপকরণ দেখে তিনি মন্তব্য করেন, এখানে উৎপাদিত সার ও কীটনাশক নকল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যা কৃষকের সঙ্গে চরম প্রতারণা। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি হওয়া দরকার।

এদিকে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ও মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম। পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, কারখানাটির সন্ধান পাওয়া পুলিশের একটি বড় ধরণের সাফল্য। কারখানার মালামাল জব্দ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় তিনটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রায় বছর খানেক ধরে গোপনে অবৈধ কারখানাটিতে ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। বালি, মাটি ও বিভিন্ন রং মিশিয়ে এসব সার তৈরি করা হয়। যেসব সার স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হতো। কারখানাটির সন্ধান পেয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এসময় ভেজাল সার এবং ভেজাল কীটনাশকসহ আরিফুল নামে একজনকে আটক করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে। দেশের নামীদামী ব্র্যান্ডের সার ও কীটনাশকের নাম ব্যবহার করে এসবের মোড়কীকরণ করা হয় বলেও জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

Top