দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা’র নির্বাহী সম্পাদক রতির স্ত্রী প্রিয়াংকার অনাকাঙ্খিত মৃত্যু, হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর

received_341712309730922.jpeg

আব্দুর রহিম রানা,যশোর;
যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোহিত কুমার নাথের কনিষ্ঠ পুত্র প্রজন্মের ভাবনার নির্বাহী সম্পাদক পার্থ প্রতীম দেবনাথ রতির সহধর্মীনি প্রিয়াংকা দেবনাথ বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন। মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ভেজাল ইনজেকশন দেওয়ার প্রায় সাথে সাথে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে কুইন্স হসপিটালে অপারেশনের মাধ্যমে প্রিয়াংকা দেবনাথ একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এটিই তার প্রথম সন্তান। অপারেশন করেন ডা: জাকির হোসেন। তিনি কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ লিখে দেন ব্যবস্থাপত্রে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা ও সন্তান সুস্থই ছিলেন। রাত ১০টার দিকে সেবিকা জেসমিন ব্যবস্থাপত্রে বর্ণিত “ইঞ্জেকশন” প্রিয়াংকা দেবনাথের হাতের শিরায় পুশ করেন। ইঞ্জেকশন দেওয়ার শুরুতেই প্রিয়াংকা দেবনাথের শরীরে “জ্বালাপোড়া” শুরু হলে তিনি ইঞ্জেকশন দিতে সেবিকাকে বারণ করেন। বারণ উপেক্ষো করে সেবিকা প্রিয়াংকা দেবনাথের শরীরে সম্পূর্ণ ইঞ্জেকশনটাই পুশ করেন। প্রায় সাথে সাথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রিয়াংকা দেবনাথ। ইঞ্জেকশনটা হাতের যে শিরাতে দেওয়া হয়েছিল, সেই শিরার একটা অংশ ধরে ফোঁসকা ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে ডা: জাকির হোসেন সেখানে উপস্থিত হন। এর আগে থেকেই প্রিয়াংকার শ্বশুর মোহিত কুমার নাথসহ পরিবারের সকল সদস্যই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেনা পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, গৃহবধূ পিংকি অনেক চিকিৎসার পর আট বছরের মাথায় এসে সন্তান ধারণ করেছিলেন।
পিংকির অপমৃত্যুর পর উত্তেজিত লোকজন শহরের প্রধান এই বেসরকারি হাসপাতালটিতে চড়াও হয়। এই সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তার-নার্সসহ কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
পিংকির স্বামীর নাম পার্থপ্রতীম দেবনাথ রতি।
প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। রতির ভাই রানানাথ জানান,রতি-পিংকি দম্পতির ঘরে সন্তান জন্ম নিচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসার পর পিংকি গর্ভধারণ করেন। তিনি গাইনি চিকিৎসক জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাক্তার জাকিরের তত্ত্বাবধানে
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিংকি একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেন। সন্ধ্যায় ডা. জাকির প্রসূতির জন্য ‘ওমেপ’ নামে একটি ইনজেকশন (ওমিপ্লাজন গ্রুপ)
লেখেন। রাত নয়টার দিকে হাসপাতালের নার্স জেসমিন ওই ইনজেকশনটি প্রসূতির শরীরে পুশ করেন। এর কিছুসময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পিংকি।
ডাক্তার জাকির দাবি করছেন, রোগীর স্বজনরা
পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ‘ওমিজিড’নামে
ইনজেকশন কেনেন; যেটি ছিল ভেজাল। এই ‘ভেজাল’ ইনজেকশন পুশ করার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে।
এদিকে, মোহিতনাথের পুত্রবধূর অপমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু লোক চড়াও হয় কুইন্স হসপিটালে। তারা
হাসপাতালটির সপ্তম তলায় উঠে আসবাবপত্র তছনছ করে। ভেঙে ফেলে জানালার গ্লাসগুলো। এই সময় আতঙ্কময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন,
হামলার সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। হাসপাতালে অবস্থানরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা যে যার মতো পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ হাজির হয় কুইন্স হসপিটালে এবং উত্তেজিত লোকজনকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
নেয়।
থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মধ্যরাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় হাসপাতালটির সামনে
পুলিশ অবস্থান করছিল। রানানাথ জানান,তার সদ্যোজাত ভাইজি সুস্থ আছে। তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। প্রসূতি পিংকির মরদেহও নিয়ে গেছে পরিবার।
কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপক মিঠু সাহা দাবি করেন, লোকজন উত্তেজিত হয়ে সামান্য ভাঙচুর করেছে। এতে
তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
আমাদের প্রতিবেদক আব্দুর রহিম রানা’র কাছে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের কেউ ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না। ‘তৃতীয় পক্ষ’ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর কবুর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Top