ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরীর ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

IMG_20180913_160348.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
বীর চট্টলার যে কয়জন কৃতি সন্তান মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার আন্দোলনে বায়ান্ন সালে রাজপথে নেমেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভাষা সৈনিক আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী। যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। পঞ্চাশ থেকে আশির দশকে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যে কজন ব্যক্তি বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বিনোদ বিহারী চৌধুরী, শরদিন্দু দস্তিদার, এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, শেখ মোজাফফর আহমদ, এম আর সিদ্দিকী ও এম এ হান্নানদের মতো নেতাদের সংস্পর্শে থেকে দলের হাল ধরার সামর্থ্য অর্জন করেছিলেন তিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, পঞ্চাশের দশকের ছাত্র ও যুব আন্দোলন, ছয় দফা প্রচার এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ছিল সক্রিয় ভূমিকা। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সত্তরের নির্বাচনে গণপরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও বাকশালের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সত্তরের নির্বাচনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরাজয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের সংবিধান রচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও আবদুল্লাহ আল হারুনের আগ্রহ ছিল নজরকাড়ার মতো। শরদিন্দু দস্তিদার, মাহবুব উল আলম চৌধুরী, সুচরিত চৌধুরী প্রমুখের মতো সাহিত্যসেবী ব্যক্তির সংস্পর্শে থেকে নিজেও সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুরাগী হয়ে ওঠেন।
স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক স্বাধীনতা নামে একটি পত্রিকা বের করেন। সাতাত্তর সালে পত্রিকাটি পুনরুজ্জীবিত করেন।
জিয়া-এরশাদ আমলে তাঁদের দলে যোগদান কিংবা মন্ত্রিত্ব গ্রহণের প্রলোভনে তিনি প্রলুব্ধ হননি। পরবর্তী দিনগুলো তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেই কাটানোর ইচ্ছা পোষণ করেন। সূর্য সেনের বাস্তুভিটা রক্ষণ, তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, জে এম সেন গুপ্ত, নবীনচন্দ্র সেন ও নেলী সেনগুপ্তের বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগে তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা।
মৃত্যুর আগে তিনি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা মরহুম জননেতা আবদুল্লা আল হারুনের কন্যা।

মহান এই নেতার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আজকের এই দিনে এই মহান নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমিন।

Top