রাজস্ব আয় ৫৩ লাখ; মিয়ানমার থেকে রেকর্ড সংখ্যক গবাদিপশু আমদানি

39751052_239423216715725_4535213210894073856_n.jpg

আবদুর রাজ্জাক,ক´বাজার জেলা প্রতিনিধি :
শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কক্সবাজারের ৪৪ টি পশুর হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশীয় গবাদিপশুর আমদানি হয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে আসছে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা গবাদিপশু।
তবে গত কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার প্রতীকূলতাকে ছাপিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে চলতি আগস্ট মাসে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি এক প্রকার বন্ধ ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসায় রোববার পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১১ হাজার গবাদি পশু আমদানি করেছে আমদানিকারকরা। এর মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে ৯ হাজার ৮৪৫টি গরু এবং ৭৫৮টি মহিষ আমদানি করেছেন গরু ব্যবসায়ীরা। এর মাধ্যমে এখাতে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা।
সূত্রটি আরো জানায়, চলতি মাসে মিয়ানমার থেকে ১০ হাজার ৬০৩টি পশু আমদানি করা হয়েছে। এখান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা। যা গত জুলাই মাসের রাজস্ব আয়ের চেয়ে ২২ রাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা বেশি।
টেকনাফ পশু আমদানিকারক সূত্র মতে, প্রতিবছরের মতো এবারের কোরবানি উপলক্ষে মিয়ানমার থেকে ৫০ হাজার গরু ও মহিষ আমদানির টার্গেট নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে মিয়ানমারের গরু ব্যবসায়ীদের অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া আর দেশের বাজারে গরুর দাম কমে যাওয়ায় আগস্টের শুরুতে পশু আমদানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন আমদানিকারকরা। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ পশু আমদানি করা হয়েছে।
পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি ও টেকনাফ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুল্লহ মনির বলেন বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় গত কয়েক দিন মিয়ানমার থেকে পশুবোঝাই কোনো ট্রলার করিডোরে আসতে পারেনি। তবে এখন বৈরী হাওয়া কেটে যাওয়ায় মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি আবারো শুরু হয়েছে। আশা করছি, আবহাওয়া পরিস্থিতি গত দু’দিনের মতো স্বাভাবিক থাকলে কোরবানির আগ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ গবাদি পশু আমদানি করা সম্ভব হবে। এতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো জানান, মিয়ানমার থেকে করিডোরে পশু আমদানি এবং ক্রয়-বিক্রয়ে তারা সর্বস্তরের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং কোথাও কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পশু আমদানিকারকদের কাছ থেকে ৫৩ লাখ টাকার কিছু বেশি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশন সূত্র মতে, মিয়ানমার থেকে চোরাপথে গবাদি পশু আনা রোধে ২০০৩ সালের ২৫ মে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাট বিজিবির চৌকি সংলগ্ন এলাকায় এ করিডোর চালু করা হয়। আমদানিকৃত গবাদি পশু প্রথমে বিজিবির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে টেকনাফ সদরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকে রাজস্ব জমা এবং স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের অনুমতি নিয়েই পশুগুলো করডোর থেকে ছাড় পাওয়া যায়।

Top