জগন্নাথপুরের সুজা মিয়া তালুকদার পোল্ট্রি খামার করে স্বাবলম্বী

News-Photo-01-2-2.jpg

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের মরহুম হাজী সিরাজ মিয়া তালুকদারের ছোট ছেলে আবু খায়ের (সুজা মিয়া তালুকদার) দীর্ঘ দিন রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসা পরিচালনা করে লোকসান দিয়ে অবশেষে যখন ক্লান্ত প্রায় তখন মানসিকভাবে ভেঙ্গে না পড়ে সিদ্ধান্ত নেয় নিজেদের পরিত্যক্ত জায়গায় কিছু একটা করার।শেষে পরিবারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয় পোল্ট্রি খামার করার।
প্রথমে তৈরি করেন মুরগী খামার করার জন্য টিনশেড ঘর।পরে খামারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় করে শুরু করেন মুরগী খামার।প্রথমবার ৬লক্ষ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ২০০০ (দুই হাজার) মুরগী নিয়ে শুরু করেন মুরগীর খামার। মুরগী ফার্ম শুরু করার পর প্রাথমিকভাবে তেমন লাভ করতে পারেনি। ঐ সময় প্রতি বাচ্চার দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা।কিন্তু এরপরও তিনি ধৈর্য না হারিয়ে লেগে থাকেন কাজে।পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে লাভের মুখ দেখতে পান সুজা মিয়া তালুকদার।এতে অনেকটা উৎসাহ এবং সাহস জাগে তার মনে।
প্রথম প্রথম কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও পর্যায়ক্রমে সে পোল্ট্রি খামার বিষয়ে সবকিছু শিখে নেয়।আয়ত্বে করে নেয় বাচ্চার খাবার পরিবেশনসহ বাচ্চা বড় করার প্রয়োজনীয় পদ্ধতি।পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হতে থাকে সুজা মিয়া তালুকদারের অর্থনৈতিক অবস্থা।পোল্ট্রি খামার করে ভাগ্য বদলে। যেতে থাকে তার। মুরগী পালন এবং বিক্রি করে তিনি আজ সফল খামারী ও সমাজের সফল মানুষের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।এ কাজে তাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্যে এবং উৎসাহ দেন তার মা।
শুরুর দিকে প্রতিটি বাচ্চার দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা ও সর্বন্মি ২৫-৩০ টাকা।তার প্রতি ব্যাচ মুরগী ২৫-৩২ দিনের মধ্যে বিক্রী করতে হয়। মুরগী বিক্রী করার পর সকল খরচ বাদ দিয়ে তার প্রতি মাসে ৪০-৬০ হাজার টাকা মুনাফা আয় করেন।এভাবে প্রতি মাসে বাড়তে থাকে তার উপার্জন।তার পরিবারও আর্থিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী।তার খামারে পালন করা প্রতি কেজি মুরগীর পাইকারী মূল্যে পাইকারি দাম রাখেন ১০০ থেকে ১২৫ টাকা।তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম উঠানামা হয়। তবে তিনি বেশি টাকা লাভের আশা না করে অল্পলাভেই সন্তুষ্ট থাকতে চান বলে জানান তার কাছ থেকে মুরগী ক্রয় করা অনেক ব্যবসায়ীরা। সুজা মিয়া তালুকদারের মত সবাই এগিয়ে আসলে সমাজে তথা রাস্ট্রে বেকার সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় এ সেক্টরটি ধরে রাখতে সরকারসহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসতে হবে।##

Top