কক্সবাজারে কাঠ পাচারকারী-বনকর্মীদের মধ্যে গোলাগুলি, নিহত ১, আহত ১৪

39291426_293516967897303_1975784479142182912_n-1.jpg

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সদর উপজেলায় কাঠ পাচারকারীদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় মো. মোস্তাক (৩০) নামে এক কাঠ পাচারকারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, এ ঘটনায় তিন জন বনপ্রহরীসহ মোট ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার ঈদগাঁওস্থ চান্দেরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার এ খবর নিশ্চিত করেন। নিহত মোস্তাক সদরের ঈদগাঁও মেহেরঘোনা এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোছেনের ছেলে। স্থানীয়দের দাবী, বিট কর্মকর্তা মামুন অর রশিদের গুলিতে মারা যায় মোস্তাক।
এ ঘটনায় ৭ বনকর্মীসহ অন্তত ১৪ ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধ ও আহতদের মধ্যে বনবিট কর্মকর্তা মামুনর রশিদ খাঁন, বনপ্রহরী আবদুল মান্নান, আবদুল মতিন, শহিদুল ইসলাম সোহাগ, মোহাম্মদ ছবুর আলী, আবদু রশিদ, কাজী আবদুল মালেক, সমির চন্দ্র কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৭ আগষ্ট) সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন চাঁন্দের ঘোনা উছিন্না মোরা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বনবিভাগের সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বনরক্ষীদের কাছ থেকে চাইনিজ রাইফেল ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে দ্বিখ-িত অবস্থায় উদ্ধার করলেও লুট হয়েছে ৭ রাউন্ড গুলি। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কেউ আটক হয়নি।
স্থানীয়দের কথা বলে জানা গেছে, মোস্তাক আহমদসহ ৪/৫ জন লোক রিজার্ভ জমিতে পলিথিন দিয়ে ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে ঈদগাঁও মেহের ঘোনা বিট কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ খাঁনের নেতৃত্বে একদল বন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌছে ঝুঁপড়ি নির্মাণে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘর নির্মাণকারী মোস্তাককে লক্ষ করে গুলি ছুঁড়ে বিট কর্মকর্তা মামুন। মোস্তাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বনকর্মীদের ধাওয়া উত্তেজিত জনতা। এতে এলাকাবাসী ও বন কর্মকর্তাদের সাথে ২য় দফা সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে বনবিভাগের ৭জনসহ ১৪ জন মতো আহত হয়।
খবর পেয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ মাহমুদ ভুঁইয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি জানান, নিহতের গলা, হাতে ও বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। লাশের সুরহতাল রিপোর্ট তৈরী করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বনবিট অফিস ও নিহত ব্যক্তির এলাকা পাশাপাশি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছৈয়দ আলম জানান, তুচ্ছ বিষয়ে গুলি করা উচিত হয়নি। সরকারী গুলি অপচয় করায় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
কক্সবাজার উত্তন বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা (স্পেশাল ওসি) মেহেদী হাসান জানান, একদল সশস্ত্র বনদস্যু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঘর বাঁধছে জেনে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এসময় সশস্ত্র দখলকারীরা বনকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। বনকর্মীদের এলোপাতাড়ি কুপায়। আত্নরক্ষার্থে বনকর্মীরাও গুলি চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই ৭ জন বনকর্মী গুলিবিদ্ধ ও দায়ের কুপে আহত হন।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহবুব মোর্শেদ জানান, সরকারী জায়গা দখল একটা অপরাধ। বাঁধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া আরেকটি অপরাধ, যা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় ২ বনকর্মী নিখোঁজ রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভা মেয়র মুজিবুর রহমান।তিনি আহতদের খোঁজ খবর নেন ৤

Top