লামার ইয়াংছা-বনপুর সড়ক (৯ কিলোমিটার) মরণফাঁদ !

received_274146580033667.jpeg

আরিফুল ইসলাম লামা,উপজেলা প্রতিনিধি:

লামা উপজেলার ইয়াংছা হতে বনপুর বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কের কয়েকটি স্থানে বেহালদশা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রণাধীন সড়কটি প্রতিবছর মেরামত করলেও ভাল রাখা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। অতিমাত্রায় পাথর, বালু ও গাছ বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি অল্প সময়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, রাস্তার মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বার আউলিয়া ট্রেডার্স ৪৭ লক্ষ টাকা চুক্তিমূল্যে সড়ক সংস্কারের কাজটি বাস্তবায়ন করছে। বর্ষার কারণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা যাচ্ছেনা। মাস-দুয়েকের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজটি শেষ হতে পারে। চলতি বর্ষায় রাস্তার দু’পাশ ভেঙ্গে যাওয়ায় পুনসংস্কার ও বনপুর বাজার হতে গয়ালমারা-ত্রিশডেবা পর্যন্ত রাস্তার অংশের কাজ নতুন করে করার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটির কালিরঝিরি মুখ, বড় পাড়া অংশ, ডবল ব্রিজ, ছোট পাড়া এলাকার অংশ, চিতার ঝিরি, কাইক্কা ঝিরি ও ঠান্ডা ঝিরির অংশে প্রচুর বড় বড় খানাখন্দ রয়েছে। এছাড়া উল্লেখিত স্থানের দু’পাশে ব্যাপক ভেঙ্গেছে। এইসব অংশে গাইডওয়াল না দিলে রাস্তা রক্ষা সম্ভব নয়। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন কয়েক হাজার মানুষ। চলে যানবাহন। কিন্তু সড়কটির বেহালদশা হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সর্বসাধারণকে।

সড়কটির করুণ পরিণতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়। শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ৯ কিলোমিটার রাস্তা গাড়িতে আসতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা। সাথে মৃত্যুঝুঁকি ফ্রি। অধিকাংশ রাস্তা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে আসতে হয়। জনবান্ধব সরকার আমাদের কষ্ট দেখবেন না ?

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আপ্রুসিং মার্মা বলেন, রাস্তার করুণ দৃশ্য মনে পড়লে বাড়ি থেকে বের হতে ইচ্ছে করেনা। ৯ কিলোমিটার সড়কটি যেন মরণফাঁদ। সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। আপাতত বৃষ্টির কারণে কযেকদিন কাজ বন্ধ রয়েছে। চলতি বর্ষায় রাস্তার দু’পাশে ব্যাপক ভেঙ্গেছে। সড়কটি রক্ষা করতে অনেক অংশে গাইডওয়াল দরকার। যা চলমান সংস্কার কাজে ধরা নেই। অপরদিকে বনপুর বাজার হতে গয়ালমারা পর্যন্ত অংশের সড়কটি একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই অংশটি নতুন বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে পুন নির্মাণের দাবী করেছে এলাকাবাসী। তিনি বেহালদশা হতে উত্তোরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বার আউলিয়া ট্রেডার্স এর কর্ণধার রুবেল চৌধুরী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অধিনে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। মাস দু’য়েকের মধ্যে কাজ শেষ হলে জনভোগান্তি লাগোব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, সড়কটির ব্যাপকভাবে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। চলতি অর্থবছর সড়কটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সড়কটি রক্ষায় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সরজমিনে গিয়ে আর কি ধরনের সংস্কার প্রয়োজন তা জানানো জন্য বলা হয়েছে।

Top