বাংলাবাজার-বাশতলা রাস্থার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যাবহারের অভিযোগ

received_1068297766680598.jpeg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার-বাঁশতলা সড়কের প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য গ্রামীণ সড়কে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সড়কের গার্ডওয়ালে নিম্নমানের ইট লাগানোয় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অফিস। মঙ্গলবার পর্যন্ত সড়কের গার্ডওয়ালের কাজ বন্ধ ছিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধানে হওয়া দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাংলাবাজার-বাঁশতলা সড়কের কাজ পায় এনআই/ এইচকে (জয়েন্ট বেঞ্চারে) নামের সুনামগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । এক বছরের মধ্যে কাজটি শেষ করে দেবার কথা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৩ মাস হয় কাজ শুরু করলেও কাজের ধীরগতি ও অনিয়ম নিয়ে শুরুতেই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কাজে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় জুলাই মাসের ১৫ তারিখে ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য রায়হানুল ইসলান রবিন মেম্বারের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঠিকাদারের দায়ের করা অভিযোগে ইউপি সদস্য রায়হানুল ইসলাম রবিন কে থানায় খবর দিয়ে এনে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষ্ব্ধু হয় এবং পরদিন বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা সদরে এসে প্রতিবাদ জানায়। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে ছাড়া পান ইউপি সদস্য রায়হানুল ইসলাম রবিন।
ইউপি সদস্য রায়হানুল ইসলাম রবিন বলেন,‘সড়কের ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম দেওয়ায় এবং নিম্নমানের ইট গার্ডওয়ালে লাগানোয় আমি প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ দিয়ে শাসানো হয়েছে।’
স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষক জানান, নিম্নমানের ইট এখনো সাইডে রয়েছে। কিছু ভালো ইট এনে সড়কে রেখে ঐ ইটগুলো সড়কের পাশের একটি বাড়ীতে রাখা হয়েছে। এর আগেও এই সড়কে এভাবে নিম্নমানের ইট লাগানো হয়েছে বলে দাবী করেন ঐ শিক্ষক।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘গত ৭ আগস্ট সড়কের উপর কাজের জন্য আনা নিম্নমানের ইট দেখে ইট না বদলানো পর্যন্ত সাইডে থাকা প্রকৌশলীদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলে এসেছি।’ তিনি বলেন,‘নিম্নমানের কাজ হলে লোকজনকে বাঁধা দেবার জন্য আমরা স্থানে স্থানে বলে আসছি। এখন কেউ অনিয়ম নিয়ে কথা বললে যদি তাকে পুলিশ ধরে আনে তাহলে সেটি আমাদের জন্য লজ্জার হয়।’
ঠিকাদার নুরুল ইসলাম (এন আই) এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বললেন,‘বাংলাবাজার-বাঁশতলা সড়কের কাজ প্রাক্কলন মোতাবেক করা হচ্ছে। কোথাও কোন অনিয়ম হচ্ছে না। সামান্য ইট খারাপ এসেছিল, এগুলো বদল করা হয়েছে। ইউপি সদস্য রবিন মিয়া সাইডে বালু-পাথর সরবরাহ করতে চেয়েছিলেন। তিনি কাজ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। পরে এমপি সাহেব (মুহিবুর রহমান মানিক) এটি মিটমাট করে দিয়েছেন।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী হরজিৎ সরকার বলেন,‘সীমান্তবর্তী এই সড়কের কাজের মান নিয়ে কোন ভাবেই আপোস করা হবে না। নিম্নমানের কোন কিছুই লাগাতে দেওয়া হবে না। কাজের সাইডে গার্ডওয়ালের জন্য নিম্নমানের ইট আনায় আমরা ঢালাই ও গার্ডওয়ালের কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। এখন ঢালাইয়ের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইট না সরানো পর্যন্ত গার্ডওয়ালের কাজ বন্ধ রাখা হবে

Top