সীমা গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলায় শ্রীনিকেতনের মালিক সুমনদে’র জামিন আবেদন নামঞ্জুর

Suman-Dey.jpg

আদালত প্রতিবেদক :
সীমা গ্রুপে কর্মরত থাকাবস্থায় কোম্পানীর অর্পিত আস্থা ও বিশ্বাস ভংগ করিয়া কোম্পানীর প্রায় ১০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাত ও মালিকের স্বাক্ষরিত চেক চুরির অভিযোগে কোতোয়ালী থানাধীন সিরাজদ্দৌল্লা রোডস্থ শ্রীনিকেতন এর মালিক সুমন কান্তি দে’র জামিন আবেদন নামঞ্জুর করতঃ আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ প্রদান করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদ এর আদালত। আসামী সুমন দে চট্টগ্রাম জিলার বোয়ালখালী থানাধীন শাকপুরা গ্রামের মৃত মদন চন্দ্র দে ও মঞ্জু রানী দে এর পুত্র। ঘটনার বিবরনে প্রকাশ আসামী ২০০৩ সালে বাদীর পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠানে হিসাব রক্ষন বিভাগে যোগদান করিয়া তাহার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কোম্পানীর মালিকসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নজর কাড়িতে এবং তাহাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করিতে সক্ষম হন। যাহার কারণে কোম্পানীর মালিক তাহার অবর্তমানে লেনদেন পরিচালনা করিবার সুবিধার্থে ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করিয়া আসামীর নিকট রাখিয়া যাইত। আসামী তাহার উপর প্রতিষ্ঠানের অর্পিত আস্থা ও বিশ্বাস ভংগ করিয়া দফে দফে কোম্পানীর ৯,১৮,৫৮,৪৩৫/- (নয় কোটি আঠার লক্ষ আটান্ন হাজার চারশত পঁয়ত্রিশ) টাকা আত্মসাত করেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত চেক হইতে কতেক চেক ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যবহার না করিয়া চুরি করিয়া লইয়া যাইয়া উক্ত চেক নিজের কাছে রাখিয়া দেন। কোম্পানীর আভ্যন্তরীন অডিটে আসামী কর্তৃক কোম্পানীর বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি ধরা পড়িলে আসামী তাহার কৃত কর্মের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করিয়া আত্মসাত কৃত অর্থ হইতে ৬,০০,০০,০০০/- (ছয় কোটি) টাকা ফেরত দেওয়ার নিমিত্তে কোম্পানীর বরাবরে ৫ (পাঁচ)টি চেক প্রদান করেন। যাহার মধ্যে ১,৪০,০০,০০০/-(এক কোটি চল্লিশ লক্ষ) টাকার একটি চেক নগদায়ন করিলেও বাকী চেক সমুহের মধ্যে ৩,০০,০০,০০০/- (তিন কোটি) টাকার তিনটি চেকের টাকা দিব দিচ্ছি বলিয়া মেয়াদ পার করাইয়া দেন। বাদী প্রতিষ্ঠান তাহাদের পাওনা দাবী করিয়া আসামীকে নোটিশ প্রদান করিলে আসামী তাহার নিকট রক্ষিত চোরাই চেককে ২,২৫,০০,০০০/- (দুই কোটি পঁচিশ লক্ষ) টাকার মূল্যবান জামানতে পরিনত করিয়া উক্ত চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাদী প্রতিষ্ঠানের টাকা উঠাইয়া নেওয়ার প্রচেষ্ঠা চালায়। যাহার জন্য সীমা অটো স্টীল মিলস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদী হইয়া গত ১১/০৮/২০১৮ইং তারিখে সি.এম.পি’র ডবলমুরিং থানায় আসামীর বিরুদ্ধে ২১(৮)১৮ ও ২২(৮)১৮ইং মামলা দায়ের করেন। বাদী পক্ষের নিয়োজিত কৌশুলী এডভোকেট প্রদীপ আইচ দীপু জানান, “ সীমা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামুন উদ্দিন কর্তৃক আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করিয়া উভয় মামলায় আসামীর ৫ (পাঁচ) দিনের করিয়া রিমান্ড আবেদন সহ গত ১১/০৮/২০১৮ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সর্পোদ করেন। গতকাল ১২/০৮/২০১৮ইং তারিখে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে আসামী পক্ষের কৌশুলী আসামীর জামিন আবেদন করিলে আদালত উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আসামী সুমন কান্তি দে এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করতঃ আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ প্রচার করেন।” বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট এ.এম.জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, এডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট এ.এইচ.এম জসীম উদ্দিন, এডভোকেট প্রদীপ আইচ দীপু, এডভোকেট মামুন করিম, এডভোকেট ছোটন কান্তি বোস ও এডভোকেট চন্দন চক্রবর্তী প্রমুখ। অন্যদিকে আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন- এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, এডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী প্রমুখ।

Top