যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের ময়না তদন্ত

38996220_2118822081724643_6193288457956098048_n.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর;
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি লাশের ময়না তদন্ত করা হয়। যশোর ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে ময়না তদন্তের জন্য এই হাসপাতালে লাশ পাঠানো হয়। কিন্তু আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে
যেমন বিলম্ব হচ্ছে, তেমননি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নির্ভূল প্রতিবেদন প্রস্তুত কাজ।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবুল কিশোর জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের
মর্গে লাশ কাটার জন্য উপযুক্ত টেবিল, স্ট্রে মেশিন, এক্সরে মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। মর্গের মধ্যে ঠান্ডা ও গরম পানির ব্যবস্থা আছে। মর্গের পাশে আছে প্যাথলোজি ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম। ময়না তদন্ত শেষে লাশটি ফ্রিজে রাখার ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু যশোর হাসপাতালের মর্গে একটি টেবিল ছাড়া কিছুই নেই। ফলে ময়না তদন্তের সময় নানামুখি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখা হয় ময়না তদন্ত বা কাটার টেবিলে। লাশের সংখ্যা বেশি হলে ফ্লোরে রাখা হয় লাশ। লাশ কাটা হয় পুরাতন ছুরি ও কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে। রুমে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেই। মর্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করার জন্য কোন স্টাফ বা লোকবল নেই। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন যশোর হাসপাতালের মর্গে গড়ে পাঁচটি লাশের ময়না তদন্ত হয়। যশোরের আটটি উপজেলা এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ এখানে লাশ পাঠায়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ওহেদুজ্জামান ডিটু বলেন, ‘মর্গের অবকাঠামো আধুনিকভাবে তৈরি হলেও বিভিন্ন সমস্যা ও
জটিলতার কারণে হাসপাতালের মর্গে আধুনিকতার ছোঁয়া পড়েনি। লাশ রাখার টেবিল নেই। ফলে লাশ কাটার টেবিলে রাখতে হয় মরদেহ। অনেক সময়একই টেবিলে দু’টি লাশ রেখে মরদেহ কাটা হয়। অনেক সময় পুরাতন লাশের কারণে গন্ধের মধ্যে চিকিৎসকরা ময়না তদন্ত করেন। এ ছাড়া মর্গে পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা নেই। ফলে সূর্য ডোবার পরে আর কোন লাশের ময়না তদন্ত করা সম্ভব হয় না।’

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক চিকিৎসক মাশফেকুর রহমান জানান, হাসপাতালের মর্গে চিকিৎসকদের বসার জায়গা নেই। গুলি খাওয়া মৃত লাশের এক্স-রে ব্যবস্থা না থাকায় পুরো শরীর কেটে গুলিটি বের করতে হয়। আবার ফরেনসিক ল্যাব না থাকায়
আলামত ঢাকায় পাঠানোর জন্য মাসের পর মাস মর্গে পড়ে থাকে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আধুনিক যন্ত্রপাতি অনেক কিছুই নেই।
বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে আগামীতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলে মর্গের এ সমস্যা থাকবে না বলে
আশা করছি।’

Top