দোয়ারাবাজারে জাল সনদে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ,তোলপাড়

download-1-1.jpg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
দোয়ারাবাজারে ৮ম শ্রেণির জাল সনদপত্র (সার্টিফিকেট) দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শনিবার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের মঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম-নৈশ প্রহরী পদে জাল সনদে নিয়োগ পান সোহেল আহমদ।
তিনি উপজেলার একই ইউনিয়নের রইছপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। ২ আগষ্ট মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত ৯ আগষ্ট তাকে নিয়োগের জন্য বাছাই করা হয়।
জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সোহেল আহমদ স্থানীয় হাজী কনুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির সনদ দেন। কিন্তু ওই সনদটি জাল বলে জানা যায়। বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হলে শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা সনদের সত্যতা জানতে বিদ্যালয়ে গেলে সত্যতা বেরিয়ে আসে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি হাফিজ আমিন উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফতেফুল ইসলামসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রেজিস্টার খাতা দেখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সোহেল আহমদ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নামাজে গেলে আধা ঘণ্টা পর বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শ্যামন্ত দাস প্রধান শিক্ষককে মোবাইল ফোনে জানান, সোহেলের নাম খাতায় পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিদ্যালয়ে রেজিস্টার খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নতুন করে সোহেল আহমদের নাম লিখা রয়েছে। যা পূর্বে ছিল না। ১৯৯৯ সনের ৮ম শেণির শিক্ষার্থী তালিকার ৫৬ নম্বরে বশির উদ্দিন এর নাম রেজিস্টার রয়েছে। কিন্তু অপর পৃষ্ঠায় আবার ৫৬ নাম্বার বসিয়ে সোহেলের নাম লেখা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজ আমিন উদ্দিন হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং সভাপতি তাৎক্ষণিক রেজিস্টার খাতা জব্দ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিজ আলী বলেন, ‘সোহেল আহমদ আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র ছিল না। তা নিশ্চিত হওয়ার পর কে বা কারা অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে রেজিস্টার খাতায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজ আমিন উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফতেফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের নামে সোহেলকে প্রদান করা ৮ম শ্রেণির সনদ জাল ও পরবর্তীতে রেজিষ্টার খাতায় যিনি সোহেল আহমদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, ‘কেউ জাল সনদ দিয়ে নিয়োগ পেয়ে থাকলে খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাল সনদ তৈরীতে বিদ্যালয়ের কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে সেটিও যাচাই বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Top