যশোরের মনিরামপুরে ৩ চোরের দল আটক

38908253_812247022316057_3136489954843033600_n.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের কোমলপুর গ্রামে গত কাল রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটে । গভীর রাতে যখন বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পরে তখন চোর ঘরের ভেতর থেকে নগদ টাকা, সোনা ও মোবাইল চুরি করে পালিয়ে যাবার সময় ১ জন কে হাতে নাতে ধরে । পরে তার স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে আরো দুই জন কে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয় । অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত. আলী আহমেদের ছেলে রফিকুল আলী (৩২) , জোঁকা কোমলপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে আব্দুলাহ (২৬) , মফেজ গাজী ছেলে নাজমুল গাজী (৩০)। মহাম্মাদ মোড়ল বলেন , আমরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরি। রাত যখন ১২টা – ১২.৩০ টা বাজে এমন সময় একটা শব্দ কানে আসে । আমি ঘুম থেকে উঠে বাইরে আসলে দেখি আমার পাশের ঘরের দরজা খোলা । ভেতরে যেয়ে দেখি আমার মেয়ে ভয়ে কাঁপছে । সে আমাকে বলে আব্বু ঘর থেকে কে যেন বের হয়ে গেল দেখো তো কি ব্যাপার মনে হয় চোর । ঘরে আলো জালিয়ে আলমারী খুলে দেখি এখানে রাখা ২৫০০০ হাজার টাকা , ২ টি সোনার চে্ইন,১ জোড়া সোনার চুড়ি ,১ টি সোনার আংটি নেই। তখন আমি চিৎকার দেয় পাশের বাড়ি থেকে আমার ভাই , ভা্ইয়ের ছেলেরা ও প্রতিবেশিরা ছুটে আসে তখন তারা চারিদিকে খোঁজা শুরু করে এমন সময় তাদের দেখে রফিকুল পালিয়ে যেতে থাকে । তারা তাকে ধরে সব কিছু স্বীকার করতে বলে।
প্রথমে সে চুরি করা মালামাল কোথায় রেখেছে তা বলে কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায় কিছু নেই,কখনো বলে বালির ভেতর, কখনো বলে
গাছের নিচে । এর পর তার নিকট জোরালো ভাবে জানতে চাইলে বলে আমার সাথে আরো দুৃই জন আছে তারা হলো নাজমুল , আর
আব্দুলাহ । আমি সব মালামাল আব্দুলাহ কাছে রেখেছি । তখন বাকি দুই জনকে ধরে আনা হয় । সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ৩ জন কে বেঁধে রাখা হয়েছে গাছের সাথে একই দড়ি দিয়ে । চারিদিকে প্রচুর মানুষের ভীড় । এই সময় আমাকে দেখে জোঁকা কোমলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাত আলী বলেন , গত কাল এই চক্র আমার বাড়ি থেকে নগদ টাকা, সোনা ও একটি মোবাইল চুরি করেছে । এর পর এক জন বলে আমার বাড়ি থেকে একটি মোবাইল চুরি হয়ে গেছে । এর পর আরো এক জন বলে আমার বাড়ি থেকে কিছু
টাকা চুরি হয়ে গেছে । আমরা এদের বার বার বলছি তোরা এলাকার ছেলে চুরি মালামাল কোথায় রেখেছিস বের করে দে । কিন্তু তারা
শিকার হলো না । কথা হয় চোরের প্রধান রফিকুলের সাথে সে বলে ভাই আমি চুরি করেছি । কত টাকা ছিল তা আমি জানি না । কিন্তু চুরি করা মালামাল আমার কাছে নেই । আমি সব মাল আব্দুলাহ কাছে দিয়ে ছিলাম । আমরা ৩ জন মিলে রাতে চুরি করবো বলে এক সাথে গাজা খেয়ে মুহাম্মাদ গাজীর বাড়ির পেছনে বাংলালিংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান করি । রাত গভীর হলে আমি
সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে পড়ি প্রথমে আলমারীর চাবি খুঁজে বের করি , তার পর আলমারী খুলে যাহা ছিল সব নিয়ে চলে যাওয়ার সময় একটা শব্দ হয় তাতে সকলে জেগে উঠে,আমার পিছু নেয়। তখন আমি সকল মালামাল আব্দুলাহর নিকট দিয়ে পালাতে শুরু করি কিন্তু
পথি মধ্য আমাকে ধরে ফেলে । রফিকুলের সকল কথা আব্দুলাহ অস্বীকার করে । সে বলে আমি ওর সাথে থাকি কিন্তু আমি কোন দিন চুরি করেনি আজ ও বাঁচার জন্য আমাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিনের মত আমি গত কাল রাত ১১ টার সময় বাজার থেকে বাড়ি চলে যাই । সকালে উঠে শুনি আমি নাকি চুরি করেছি তারপর আমাকে ধরে নিয়ে যায় । সেখানে যেয়ে দেখি রফিকুল ও নাজমুলকে । আব্দুলাহ এর কথার মাঝে এক জন বলে তোকে আমি গত কাল রাত ২ টার সময় বাজারে দেখেছি তুই মিথ্যা বলছিস । স্থানীয় মেম্বার জনাব আব্দুর গফুর বলেন , এর আগে রফিকুল অনেক চুরি করেছে । অনেক বার বিচার করেছি, দিয়েছি বহু রকম শাস্তি । কিন্তু রফিকুলের চুরি করা বন্দ করতে পারিনি । বাকি দুই জনকে আগে কোন দিন চুরি করতে দেখিনি বা কোন দিন শুনিনি । মেম্বারের সাথে আরো অনেকে বলেন, রফিকুল একটা জাত চোর এর আগে বহু চুরি করেছে । কোমলপুর বাজারের সভাপতি বিষিষ্ট ব্যবসায়ী তরিকুল মোড়ল জানায়, রফিকুলের যে কয় বছর বয়স সেই কয় বছর ধরে সে চুরি করে আসছে । রফিকুল একবার শিশু পাচার মামলায় ১০ বছর জেল খেটেছে । ও যখন ধরা পরে তখন সে আরো কিছু লোকজন জোরিয়ে নেয়। আমার মনে হয় বাকি দুই জন কে সে মিথ্যা ভাবে জোরিয়ে নিচ্ছে। এই সময় উপস্থিত প্রায় সকল মানুষ এই কথার সাথে একমত পোষন করেন । সকাল থেকে ৩ জন কে আটকে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে স্বীকার করানো হয় ।
কিন্তু তারা কোন রকম শিকার হয় না । তাদের বলা হয় মালামাল গুলো ফেরত দিয়ে চলে যা । কিন্তু তারা বলতে রাজি হয় না , শুধু বলে আমি জানি না । অবশেষে ৩ জনকে পুলিশে দেওয়া হয় ।

Top