ভৈরব নদের অপরিকল্পিত ব্রিজ অপসারণে আসছে প্রকল্প

received_524602604639857.jpeg

আব্দুর রহিম রানা,যশোর;
যশোরের ভৈরব নদ সুষ্ঠুভাবে খনন ও তার প্রবাহ ফিরিয়ে আনার প্রধান বাধা অপরিকল্পিত ব্রিজ ও কালভার্টগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এই প্রকল্পের মাধ্যমে এসব স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি নতুন করে নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি হিসেবে যশোর শহরের দড়াটানা এলাকায় ভৈরবের প্রস্ত ২২২ ফুট। কিন্তু এখানে নির্মাণ করা ব্রিজটি ৮২ ফুটের।
নদের বাকি ১৪০ ফুট ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। যার পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে স্থায়ী-অস্থায়ী একাধিক স্থাপনা। এই ব্রিজটির উপর দাঁড়িয়ে দক্ষিণে থাকালে দেখা যায়
কাঠেরপুল ব্রিজ। যার দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট। অথচ এখানে এক সময় নদ ছিলো ১৪৬ ফুট। ব্রিজটির দুই ধারে নদের বাকি ৯৬ ফুটে এখন কংক্রিটের রাস্তা।
শুধু দড়াটানা বা কাঠেরপুল নয়,এভাবে নদী শাসন করে ভৈরবের যশোর অংশে ২০টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। যা সাধারণের চলাচল সহজতর করলেও নদটিতে পানির প্রবাহ ফেরাতে প্রধান বাঁধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
ভৈরব নদ খননের জন্য নেওয়া‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা
উন্নয়ন প্রকল্পে’র দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে এসব ব্রিজ ও কালভার্ট অপসারণ ও নতুন করে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
যশোর কালেক্টরেটের এসএ শাখা ও পাউবো সূত্রে জানা যায়,শহরের বাবলাতলা এলাকায় ২০৫ ফুট চওড়া নদের ওপর ১০০ ফুটের সেতু,বারান্দিপাড়া এলাকায় ১৮২ ফুট নদের ওপর ১০০ ফুট, নীলগঞ্জ এলাকার ১৩৬ ফুট নদের ওপর ৬০ ফুটের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া গত তিন দশকে শহরের পেপসি রোড,খয়েরতলা, ডাকাতিয়া সড়ক,আরসিসি গার্ডার,বিরামপুর,ঢাকা রোড, বেলতলা, রাজারহাট, রূপদিয়া, দায়তলা, ঘোপের কাচারি ভাগ, ভায়না ঘোপ, ছাতিয়ানতলা, মাথাভাঙ্গা, ঘুনী ও বসুন্দিয়া এলাকায় নদের ওপরে যানবাহন চলাচলের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৩টি সেতু এলজিইডি,চারটি সড়ক ও জনপথ (সওজ)
বিভাগ এবং তিনটি ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে। দুই পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করে এসব সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মৃতপ্রায় নদে পরিণত হয়েছে ভৈরব।
এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই অংশ হিসেবে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছে যশোরবাসীর বহু কাঙ্খিত ভৈরব নদ খনন কাজ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা এসব ব্রিজ ও কালভার্ট অপসারণ না করা হলে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া‘ভৈরব নদ এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের’ সুফল আসবে না বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। তাই মৃতপ্রায় নদের ‘প্রাঁণ’ ফিরিয়ে আনতে ভাঙতে হবে সরকারিভাবে নির্মিত এসব স্থাপনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব ব্রিজ ও কালভার্ট অপসারণের
প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এজন্য এগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন,‘অপরিকল্পিত ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভৈরব নদ খনন ও তার সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এই সমস্যা সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকল্প তৈরি করতে বলেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। আমরা আশা করছি চলমান প্রকল্পের কাজ শেষে নতুন এই প্রকল্প শুরু হবে।’

Top