শেরপুরে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।

38742049_294176561139620_4356412116043825152_n.png

রিপন মিয়া শেরপুর প্রতিনিধি:মৌলভীবাজার।
আসন্ন ঈদুল আজহা ও দুর্গা পূজায় মাসিক বেতনের সম পরিমাণ উৎসব বোনাস প্রদান, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নুন্যতম মজুরি কার্যকর করার দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫ এর শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।বুধবার সন্ধ্যায় বাইপাস রোডস্থ কার্যালয় হতে মিছিলটি বের হয়ে শেরপুর গোলচত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে পুণরায় কার্যালয়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়। এর আগে কার্যালয়ে শংকর দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সভায় শংকর দাশকে সভাপতি ও মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আঞ্চলিক কমিটি পূর্ণঃগঠন করা হয়। কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বিঃ২০৩৭ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫ এর সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল। হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমডি দুলাল আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ১৯৩৩ এর সহ-সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন শ্রমিকদের কষ্ঠার্জিত মুনাফায় মালিকরা মহা ধুমধামে ঈদ উদযাপন করলেও তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিকদের আইনগত ন্যায্য উৎসব বোনাস প্রদান করেন না, এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মাসিক বেতনও মালিকরা ঠিক মত পরিশোধ করেন না। ঈদ ও পুজার সময় অধিকাংশ হোটেল শ্রমিকদের কোন ছুটিও প্রদান করা হয় না। আর যে সকল শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয় তাদের ছুটির দিনের বেতনও দেওয়া হয় না। অথচ সরকার বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫ অনুযায়ী সকল শ্রমিককে উৎসব বোনাস প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বক্তারা সরকারের শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন এ পর্যন্ত যতবার শ্রমআইন সংশোধন করা হয়েছে ততবারই শ্রমিকদের অধিকার কিছু না কিছু ক্ষুন্ন করা হয়েছে। বর্তমান শ্রম আইনের ২৬ ধারাসহ শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সকল কালাকানুন বাতিল করে আইএলও কনভেশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রদান করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানান। সভায় সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলা হয় প্রতিক্রিয়াশীল মহল থেকে ছাত্র ও পরিবহণ শ্রমিকদের মুখোমুখি করে তোলার অপচেষ্ঠা হচ্ছে। সড়কে নিরাপত্তাহীনতাসহ চলমান নৈরাজ্যিক অবস্থার জন্য দায়ী বর্তমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। বর্তমান শোষণমুলক আর্থসামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক-কৃষক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তুরের দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান শোষণমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তণের লক্ষ্যে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

Top