ভাল্লুখ্যাইয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে সহকারি শিক্ষিকা আলমাছ ও মাষ্টার রফিক উদ্দীন লাঞ্চিত

images.png

——————————-
শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকেঃ

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ভাল্লুখ্যাইয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম হাতে লাঞ্জিত হয়েছে সহকারি শিক্ষক আলমাছ আক্তার ও রফিক উদ্দীন। ঘটনটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট) সকালে বিদ্যালয়ে কমর্মরত অবস্থায়।
সূত্রে জানায়, বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আলমাছ আক্তার প্রতিদিনের মতো নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান করলে হঠাৎ প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম দম্ভোক্তি সূরে বলে তোমার সংযুক্তি বদলী বাতিল হয়েছে। এই মূর্হুতে বিদ্যালয়ে থেকে বের হয়ে যান। তখন শিক্ষক আলমাছ আক্তার জবাবে বলেন আমার যে সংযুক্তি বদলী বাতিল হয়েছে সেই রখম কোন কাগজ পত্র অদ্যবদি আমার হাতে পৌছেঁনি।
আমি সংযুক্তি বদলী প্রত্যাহারের আদেশ পেলে কেন এই বিদ্যালয়ে আসব? এসব কথা কাটাকাটির ফাঁকে একই কর্মস্থলের সহকারি শিক্ষক রফিক উদ্দীন প্রধান শিক্ষককে বলেন ওনি যখন কোন ধরনের আদেশ পত্র পাননি তাকে বিদ্যালয় থেকে কেন বের করে দিতে যাচ্ছেন। আর ওনি তো দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে এক সাথে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। ওনাকে ভালো ভাবে বুঝি বললে বিদ্যালয়ে আসার সুযোগ থাকেনা। আর হঠাৎ করে আপনি যে ভাবে দম্ভোক্তি সূরে বের করে দিতে চাচ্ছেন তা ঠিক হচ্ছে না। এসব কথার মধ্যে দিয়ে প্রধান শিক্ষক চড়া হয়ে শিক্ষক রফিক উদ্দীনকে কাঠের রুল দিয়ে আঘাত করলে তখন আঘাত সহ্য করতে না পারায় প্রধান শিক্ষকের উপর হাতাহাতি শুরু করে। অন্যান্য উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের উত্তেজিত হাতাহতি থামিয়ে দেয়।
তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে বলে সূত্র জানান।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহম্মেদ জানান, ভাল্লুখ্যাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সাথে সহকারি দু,শিক্ষকের লাঞ্জিত ও হাতাহতির ঘটনাটি আমি শুনেছি।আর সহকারি আলমাছ আক্তারকে ফোনে সংযুক্তি বদলীর আদেশের কথা বলা হলেও কোন আদেশ পত্র এখনো দেওয়া হয়নি। তবে বান্দবান জেলায় ট্রেনিং এ থাকায় ঘটনা বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। তবে এতটুকু শুনেছি প্রধান শিক্ষক প্রথমে সহকারি শিক্ষক রফিক উদ্দীনের উপর আঘাত হানে। ট্রেনিং শেষ করে কর্মস্থলে গিয়ে সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম জানান, ভাল্লুখ্যাইয়া স্কুলের ঘটনা শুনার পর আমি কয়েজন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছেঁ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ এলাকার অভিভাক,গন্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে জানতে পারলাম, প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম দম্ভোক্তিসূরে শিক্ষিকা আলমাছ আক্তারকে সংযুক্তি বদলীর আদেশ বাতিলের কথা বলে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিলে, সহকারি শিক্ষক রফিক উদ্দীন প্রধান শিক্ষকের কথার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রফিক উদ্দীনকে কাঠের রুল দিয়ে বেদম প্রহর করতে থাকে। এক পর্যায়ে রফিক উদ্দীনও প্রধান শিক্ষকের উপর হাতাহাতি করতে গেলে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা থামিয়ে দেয়। তবে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন এই প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের গত জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে আগের দিন হত্যা,হামলা এবং ভাংচুর মামলার অভিযুক্ত আসামী, সে একজন চিহ্নিত মামলাবাজ বলেও এলাকাবাসীরাও অভিযোগ জানান। তাকে অতিসত্বর বদলী করে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরুধ জানান এলাকাবাসী ।
প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, সহকারি শিক্ষক আলমাছ আক্তারের সংযুক্তি বদলীর আদেশের অনুলিপি আমার হাতে পৌছঁলে আমি তাকে ক্লাস এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না দেওয়ার জন্য বল্লে সে আমাকে বলেন, ওইসব আদেশ পত্র আমার হাতে আসেনি। তখন আমি শিক্ষা অফিসারকে ফোন দিয়ে অবহিত করলে তিনি আমাকে বের করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলে তা আমি আদেশ পালন করার চেষ্টা করি। তবে সহকারি শিক্ষক রফিক উদ্দীনেকে আঘাত করার কথা অস্বিকার করে বলেন তিনি আমাকেও আঘাত করেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অভিযোগ পত্র দায়েরও করা হয়েছে। হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মালা কথা তিনি স্বাকার করেন। তবে সবগুলো মিথ্যা মামলা বলেও জানান তিনি।
সহকারি শিক্ষক রফিক উদ্দীন জানান, সহকারি আলমাছ আক্তারকে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম লাঞ্জিত করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিলে তখন আমি বল্লাম, আলমাছ আক্তারের সংযুক্তি বদলীর বাতিল আদেশ পত্র যখন পাইনি আপনি তাকে কেন বের করে দিচ্ছেন তা ঠিক হচ্ছেনা এসব কথা বলতে গিয়ে আমার উপর বিষণ চড়া হয়ে একটি কাঠের রুল দিয়ে আঘাত করে। তখন আমাকে ধরাধরি করে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক বুকের ভিতর আঘাত অনুভব করলে তাৎক্ষুণিক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে দেয়। তবে বুকের ভিতর বিষণ ব্যাথা অনুভব হচ্ছে।

Top