বিরামপুরে প্রানীসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ভুল চিকিৎসায় গরু মেরে ফেলার অভিযোগ

download-1-1.jpg

সামিউল আলম, বিরামপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে গ্রাহকদের নিকট টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও ভুল চিকিৎসায় গরু মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী হাসপাতালের স্টাফ বহির্ভূত আলমগীর হোসেন ও মীর শাকিল নামে দুইজন সহযোগীর দ্বারা বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অথচ তাদের চিকিৎসা প্রদানের কোন লাইসেন্স বা ডাক্তারী সনদপত্র নেই। এভাবে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছে বহু টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ইতঃপূর্বে পৌর এলাকার চকপাড়া গ্রামের মামুনুর রশিদ মন্ডলের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিদেশী গরু এবং নরহরিপুর গ্রামের আতিয়ার মুন্সির একটি দেশী গরু ভুল চিকিৎসা প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গরুর মালিকগণ। এছাড়া ঐসব গরুর চিকিৎসা দিতে গিয়েও বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ডা. ইদ্রিস আলী। সম্প্রতি পৌরসভার কল্যাণপুর এলাকার মাছ ব্যাবসায়ী মিজানুর রহমানের একটি গরুকে একই কায়দায় চিকিৎসা দিয়ে তার থেকেও বহু টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন পর ভুল চিকিৎসার প্রভাবে গরুর অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়। তাৎক্ষণিক অন্যত্র চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে গরুটি সুস্থ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ডা. ইদ্রিস আলী হাসপাতালের ভেতরে ডিসপেন্সারীর সাথে একটি বড় দান বাক্স বসিয়েছেন। কেউ কোন কিছু সত্যায়ীত করতে এলে সেই দান বাক্সে চাঁদা দিয়ে সত্যায়ীত করতে হয়। জিজ্ঞেস করলে বলে এটি পাঠাগারে জমা হবে। কিন্তু কোন পাঠাগার বা সেটি কোথায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুই বলেন না।
এছাড়াও পশু হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। দুর-দুরান্ত থেকে গৃহপালিত পশু-প্রানী সঙ্গে করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষগুলোও চরম ভোগান্তীর শিকার। হাসপাতালে এসে ডাক্তার না থাকায় বসে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় তাদের। অথচ হাসপাতালের দ্বায়িত্বকালীন সময়ে ডাক্তার বাহিরে ব্যাক্তিগত চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য উচ্চ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইদ্রিস আলী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এটি আমার বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র।
দিনাজপুর জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শাহিনুর আলম জানান, আমি এবিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, একজন প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার হাতে ভুল চিকিৎসায় গরু মারা যেতে পারে না। তবে এবিষয়ে উর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

Top