ম্যাক্স হাসপাতালের পর এবার ঝালকাঠিতে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু,তদন্ত শুরু

.jpg

জাহিদুল ইসলাম পলাশ,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
চট্রগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের পর এবার ঝালকাঠির রাজাপুরের সোহাগ ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় লামিয়া আক্তার নামে আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার তদন্ত কমিটি ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন।
গত ২৮ জুলাই কাঁঠালিয়া উপজেলা (আমুয়া) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাপস কুমার তালুকদারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার এ কমিটি গঠন করেন।
গত ২৫ জুলাই রাতে রাজাপুরের সোহাগ ক্লিনিকে অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ক্লিনিক মালিক আহসান হাবিব সোহাগ লাশ রেখে রাতেই লামিয়ার স্বজনদের দুই লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করেছেন। লামিয়া পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কালাম চুন্নুর মেয়ে। সে স্থানীয় নেকপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
এ ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদটি দেখে সিভিল সার্জন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সভাপতি কাঁঠালিয়া উপজেলা (আমুয়া) স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের স্থাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাপস কুমার তালুকদার বলেন, সিভিল সার্জণের নির্দেশে তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। জানা যায়, গত এক মাস ধরে পেটের ব্যাথায় ভুগছিল শিশু লামিয়া। ১০ দিন পূর্বে শিশুটিকে নিয়ে তাঁর মা রাজাপুরের সোহাগ ক্লিনিকের চিকিৎসক মহিউদ্দিনকে দেখান। মহিউদ্দিন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে লামিয়ার অ্যাপেনডিক্স হয়েছে বলে জানান। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর অপারেশন করানোর পরামর্শ দিয়ে ওষুধ লিখে দেন ওই চিকিৎসক। লামিয়াকে অপারেশনের জন্য বুধবার বিকেলে ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রাতে অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের জন্য অস্ত্রপচার করা হয়। কিন্তু ভুল অস্ত্রপচারের কারণে শিশু লামিয়ার অপারেশন থিয়েটারে বসেই মৃত্যু হয়। পরে ক্লিনিক মালিক আহসান হাবিব সোহাগ লামিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
পরে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

Top