লালনের শহরে একতারা’র ভাস্কর্য

37920932_2042242282771393_2432466401810710528_n.jpg

মুজাহিদুল ইসলাম স্বাধীন, ঝিনাইদহ:
লালন শাহের কথা উঠলেই আসে হরিণাকুণ্ডুর কথা। আবার লালন শাহ মানেই একতারা! একতারা আর লালন যেন সমার্থক। লালন শাহের শহর হরিণাকুণ্ডুতে নির্মিত হয়েছে একতারার সুউচ্চ একটি ভাস্কর্য যার শুভ উদ্বোধন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

চার ফুট বেদির উপরে বাইশ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যটি। অর্থাৎ এই ভাস্কর্যটি মাটি থেকে ছাব্বিশ ফুট উঁচু। যতদূর জানা গেছে, বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক ভাস্কর্যের মধ্যে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য।

হরিণাকুণ্ডু শহরে একতারার ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের পুরোধা ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী একরামুল হক লিকু বলেন, লালনের জন্মভুমি হরিশপুর ও শহর হরিণাকুণ্ডুতে একতারা ভাস্কর্য নির্মার্ণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। একতারা ভাস্কর্যটি নির্মাণের ফলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির আদি ঐতিহ্যের যে ধারা তার প্রতিনিধিত্ব করে বাউল সুর যা ২০০৫ সালে ইউনেস্কোকর্তৃক স্বীকৃত। হরিণাকুণ্ডু শহরের একতারা ভাস্কর্য সারা পৃথিবীর বাউলমনা মানুষকে আকৃষ্ট করবে বলেও তিনি মনে করেন।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদের অর্থায়ণে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র শাওন সরদার ও অন্তু।

ভাস্কর্যটি নির্মাণের ফলে লালনের ভূমি পরিপূর্ণতার একটি ধাপ অতিক্রম করল বলে মনে করছেন জেলার সাংস্কৃতিক সমাজ।

Top