তিস্তার সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষমাত্রা

tista-sech-30.07.18.jpg

ডিমলা(নীলফামারী)ঃ
উত্তরাঞ্চলের খরাপিড়িত এলাকায় আমন ধান আবাদে দেশের সর্ব বৃহৎ তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের (খরিপ-২) মাধ্যমে ৬৫ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পেতে শুরু করেছে। এতে চলতি আমন মৌসুমে বৃষ্টির অভাবে খরা মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প কৃষকদের মাঝে আর্শিবাদে পরিনত হয়েছে। যার ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বিশেষ ভুমিকা পালন করবে প্রকল্পটি।
সোমবার সরেজমিনে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রথম পর্যায়ে চালু থাকা ৭১০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার ক্যানেল জুড়ে সেচের পানিতে ভরে উঠেছে। এখন প্রতিদিন ৩৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার প্রধান ক্যানেল, ৭৪ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার মেজর সেকেন্ডারী সেচ ক্যানেল, ২১৪ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সেকেন্ডারী ক্যানেল ও ৩৮৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার টারশিয়ারী ক্যানেলে ১২ ঘন্টা অন্তর অন্তর ৫ হাজার কিউসেক করে সেচ পাচ্ছে কৃষক।
পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব এবং কোথাও কোথাও অনাবৃষ্টির কারনে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপন করতে পারছে না। পাশাপাশি রোপনকৃত আমনের চারা গুলো পানির অভাবে বিনষ্ট হতে বসেছে। সেখানে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সেচ প্রবেশ করেছে।
তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সুত্র বলছেন অভুতভাবে উজান থেকে পানি আসছে। ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উথাল ঢেউ। পানিতে যেমন ভরে উঠছে নদী, তেমনি ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের সকল সেচ ক্যানেল পানিতে টই টম্বুর। তাই রোপা আমন ধান আবাদে খরা মোকাবেলায় দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ থেকে গত ১৬ জুলাই হতে স¤পূরক সেচ প্রদান শুরু করা হয়।
জানা যায়, ক্যানেল সংস্কারের বরাদ্দ পাওয়ার পরও তা সংস্কারের কাজ শেষ করতে না পারায় সৈয়দপুর ও দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্ব্বতীপুর উপজেলা এই সেচ হতে বঞ্চিত রয়েছে। ওই সকল কৃষকরা সেচের জন্য সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে ধর্ণা দিয়েও সুফল পাচ্ছে না।
রংপুর কৃষি অঞ্চল কার্যালয় সুত্র জানায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় চলতি ২০১৮-১৯ মৌসুমে পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাত ৩৭ হাজার ৬৬২ হেক্টরে , উফশীজাত ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টরে ও স্থানীয় জাত ২৯ হাজার ৭১৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নীলফামারীতে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৫৮ হেক্টর, রংপুরে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৯ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৮৪ হাজার ৮৪৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৯ হেক্টর ও কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৭৩ হেক্টর সহ মোট পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ হেক্টরে।
কৃষি বিভাগ মতে রোপা আমনের চারা লাগানোর শেষ সময় রয়েছে আগামী ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত। তবে যারা আগাম ব্রিধান-৩৩, বিনা-৭ সহ স্বল্প মেয়াদি রোপা আমন ধান আবাদ করছে তাদেরকে সেচের মাধ্যমে চারা রোপণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
সুত্র মতে গত শুস্ক মৌসুমে তিস্তা পানির প্রবাহ ছিল গড়ে ২ হাজার কিউসেক। চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ দাড়িয়ে ছিল ৯০ হাজার কিউসেকে। তবে চলতি জুলাই মাসে উজানের ঢলে তিস্তা পানি প্রবাহ চলছে গড়ে ৪৫ হাজার কিউসেক। ফলে নদী এখন দুর্বার গতিতে চলছে। এতে নদীর পানি সেচ প্রকল্পে অনায়াসে প্রবেশ ঘটিয়ে তা কৃষককুলের মাঝে সরবরাহ করতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। ফলে তিস্তার ব্যারাজের সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় কৃষকরা খরিপ-২ মৌসুমে ভরপুর পানি পেয়ে সুফল ভোগে আনন্দে আতœহারা হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ যে এবার শুস্ক মৌসুমে সেচ নির্ভর বোরো আবাদে তিস্তা নদীতে পানি সংকটের কারনে খরিপ ১ মৌসুমে কৃষকরা রেশনিং সিষ্টেমে ৩২ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা পেয়েছিল। এবার খরিপ ২ মৌসুমে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে।
তিস্তা সেচ ক্যানেল এসওয়ানটি পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, প্রচন্ড তাপদহে উত্তরাঞ্চল মরুভুমিতে পরিচয় হতে বসেছে এ সময় তিস্তার সেচ ক্যানেলের পানি কারনে আমন ধানের ব্যাপক সাফল্য বয়ে আনবে। তিনি বলেন, জমিতে আমন ধানের চাপা রোপন করা হলেও তা নষ্ট হওয়ার কারনে তিস্তা সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ফলে এলাকায় ব্যাপক ফসল উৎপাদন হবে। সেচ ক্যানেল সংস্কার না করার কারনে প্রচুর পানি থাকলেও কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ক্যানেলে ময়লা আর্বজনা ও জঙ্গলের কারনে পানি আসতে বিরম্বনা হচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্প্রসারন কর্মকর্তা রাফিউল বারী বলেন, চলতি মৌসুমে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওয়ার ৬৫হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিধারন করা হলেও ইতিমধ্যে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান হয়েছে। অবশিস্ট জমিতে সেচ প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সম্পুরক সেচের মাধ্যমে আমন মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজ কৃষি অর্থনিতীতে বিশেষ ভুমিকা পালন করছে।

Top