বিসিসি নির্বাচনে শেষ রক্ষা হচ্ছে না বিএনপির

download-1-9.jpg

ছবিঃ প্রতীকী

বরিশাল বিএনপির ভোটব্যাংক বলে পরিচিতি। দলটির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার জীবনে কোনো নির্বাচনে হারেননি। কিন্তু এবার ভোটের প্রচারে সেটা প্রকাশ পায়নি। এটাকে ‘নীরব ভোটে বাজিমাত’ করার কৌশল হিসেবে দেখছিলেন অনেকেই। অবশ্য এই কৌশলেও শেষরক্ষা হচ্ছে না বিএনপির।
শেষ মুহূর্তে বরিশালের ভোটে কোণঠাসা অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বিএনপিকে। আনুষ্ঠানিক প্রচারের শেষ দিন গতকাল শনিবার পুরো নগরী ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। দুপুরে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নৌকার মিছিল হয়। পরে ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
অন্যদিকে সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর কার্যালয় থেকে মজিবর রহমান সরোয়ার ৭০-৮০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে প্রচারপত্র বিলি ও পথসভা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় পুলিশের একটি দল তাঁদের আটকে দেয়। বিএনপির নেতারা আটজন করে রাস্তায় বের হতে পারবেন বলে জানানো হয়। এ ছাড়া ধরপাকড়ের ভয়ে সারা দিনই বিএনপির নেতাদের অনেকে নিজেদের নিরাপদ অবস্থানে রেখেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এই অবস্থা শুরু হয়। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৬৫-৭০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, সম্ভাব্য এজেন্টদের খুঁজে বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রচারপত্র বিতরণে বাধা পেয়ে সরোয়ার বলেন, এই ভোট আগামী দিনগুলোর জন্য শঙ্কা তৈরি করল। গণতন্ত্রের জন্য এটি নজিরবিহীন ঘটনা। বরিশালের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে যেখানে আছেন, নীরব বিপ্লব ঘটাবেন।
১০ জুলাই থেকে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। এরপর থেকে তিন সিটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে শ খানেক অভিযোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে বরিশালে সবচেয়ে কম অভিযোগ জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই। এর আগে শক্ত কোনো অভিযোগ করেনি বিএনপি। টুকটাক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
গতকাল দুপুরে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মজিবর রহমান সরোয়ার অভিযোগ করেন, পুলিশ পদে পদে হয়রানি করছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এরপরও মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে বিএনপি। তিনি জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম- অত্যাচার চলতে থাকলে আজ রোববার অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন বর্জন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে থাকতে চায়। তবে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত কঠোরও হতে পারে।
বাসদের মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ইসি সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, বরিশালে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপি একের পর এক সাজানো অভিযোগ দিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইছে। ভোটের দিন আনন্দঘন পরিবেশে বরিশালবাসী ভোট দেবেন।
গ্রেপ্তার, দলবদল, চাপ
বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে ১৫ জন নেতা- কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করা হয়। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৬৫-৭০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করে বিএনপি। এ বিষয়ে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এবায়েদুল হক চান বলেন, ১২৩টি কেন্দ্রের জন্য ঠিক করা তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের বাড়িতে পুলিশ ও গোয়েন্দার লোকজন হানা দিচ্ছেন। না পেলে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন বিএনপির। তাঁদের ১৭ জনই নির্বাচন করছেন এবার। তবে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তারা চাপের মুখে নিজেদের ভোট চাইছে। মেয়র প্রার্থীর পক্ষে তাদের সে রকম প্রচারণা নেই। মহানগর বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা তৌহিদ এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার তিনি শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এবায়েদুল হক বলেন, গতকাল মেয়র প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এর বাইরে সেভাবে গণসংযোগ করা হয়নি। গণসংযোগের সময় মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশি হয়রানি করে। নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে গণসংযোগ করা হয়নি। বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরোয়ানা ছাড়া কোনো আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ সত্য নয়।

Top