কমলনগরে খাল দখল করে ভবন নির্মান: জলাবদ্ধতায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি।

received_834441560062981.jpeg

এম এ এহসান রিয়াজ,(লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি) : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের জারিরদোনা খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে অবৈধ দোকানঘর ও ভবন উত্তোলন করে দখল করে ফেলেছে প্রভাবশালীরা। এতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজারের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি হাজিরহাট ও চরফলকন ইউনিনের সীমনা নির্ধারণকারী খাল হিসেবে পরিচিত। মেঘনা নদীর সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি আসা-নামা করতো এ খাল দিয়ে। দীর্ঘ দিন থেকে হাজিরহাট বাজারের কিছু আসাধু ব্যবসায়ি ও দোকান মালিকরা পরিকল্পিতভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলে খালের দুই পাড় দখল করে দোকানঘর ও ভবন নির্মাণ করে। ফলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারনে প্রতিবছর দুই ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের সয়াবিন, আউস ধান, আমনের বীজতলাসহ সকল ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে এ জারিরদোনা খাল দখল মুক্ত করার জন্য অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় এতে স্থানীয় কৃষকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ দিকে ২০১৭-১৮অর্থবছরের এডিবির বরাদ্ধ থেকে খাল সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদ ৫লাখ টাকা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বরাদ্ধ দেয়। ওই বরাদ্ধ থেকে স্থানীয় চরফলকন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হারুনের তদারকিতে খাল সংস্কারের চেষ্টা করে। কিন্তু অবৈধ দোকানঘর ও ভবন নির্মানের ফলে দখল হওয়া খালটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। এবং ওই বরাদ্ধকৃত প্রকল্পে কোন কাজ না হওয়ায় স্থানীয়রা আরও বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠে।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালিয়া মৌজার হাজিরহাট বাজারের দক্ষিন অংশের ৩০৬৫ দাগে খালের প্রস্থ ২০ থেকে ২১ফুট এবং বাজারের উত্তর অংশের ১৬৩৭ দাগে ১৭ থেকে ১৮ফুট। এর পাশে ব্যাক্তি মালিকানা সম্পত্তি থাকায় বাজারের উত্তর অংশ থেকে দক্ষিনের অংশ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ ফুট ছাড়া বাকিটা দখল করা হয়েছে। আর যতটুকু বাকি আছে তাতে ময়লা আবর্জনা ফেলে পানির প্রবাহ বন্ধ করে রেখেছে ওই প্রভাবশালী মহল। যেকোন সময় ওই জায়গাটুকুও দখল হয়ে যেতে পারে বলে ধারনা স্থানীয়দের।
কথা হয় হাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক হোসেন আহাম্মদ, নোমান হোসেন, সামছুল আলম, মো. রফিক উল্যাহ, আলী হায়দর, মো. সিরাজ, মো. বাহার, মো, ফারুক ও আবু কালামের সাথে। তারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের সয়াবিন, আউস, আমন ধানসহ সকল ধরনের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবছরই তারা ধার দেনা করে ফসল ফলান। জলাবদ্ধতার করণে ফসল নষ্ট হওয়া প্রতিবছরই তাদের ধারদেনা বাড়ছে। সরকার এ খাল দখল মুক্ত করে পানির প্রবাহ সচল না করলে কৃষিকাজ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকবেনা বলে আরও জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খোরশেদ আলম নিউজ এ্যাডভান্সকে জানান, এ জারিরদোনা খাল দখল উচ্ছেদের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর বহুবার আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬সালে অতিবৃষ্টির কারণে জলা বদ্ধতায় এ এলাকার প্রায় এক কোটি টাকার সয়াবিন নষ্ট হয়। তখন আ’লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এ আসনের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদুন নাহার লাইলী তিনি কৃষি মন্ত্রনালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে আসেন। ওই দিন তিনি উপজেলা পরিষদ স্পন্দন কক্ষে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাথে মত বিনিময় করেন। ওই সময় এ খাল পূনরুদ্ধারের কথা আসলে সচিব বরাবর আবেদন দিতে বলেন তিনি। তাৎক্ষনিক আবেদন দেওয়া হলে কৃষি মন্ত্রনালয়ের সচিব দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রকিবুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলা আমি নতুন যোগদান করেছি। যার কারণে বিষয়টি আমি অবগত নয়। আমি খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে উর্ধŸতন মহলে অবগত করবো।
জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মো: ইয়াছিন নিউজ এ্যাডভান্সকে জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি। খুব শীঘ্রই পরিদর্শনে গিয়ে খালটি উদ্ধারের ব্যবস্থা নিব।

Top