কোম্পানীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অভিযোগ

ponon tree chor ahahi.jpg

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি, নোয়াখালী:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক’র যোগসাজশে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে চর এলাহী ইউপি চেয়াম্যান আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, সড়কের পাশে প্যালাসাইটিং এ ব্যবহারের জন্য গাছগুলো উপকারভোগেীদের কাছ থেকে কিনে নেয়া হয়েছে। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সরকারি দরপত্র ছাড়া উপকারভোগেীরা একা গাছ বিক্রি করতে পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্র জানা যায়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অভিনব কৌশলে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক’র যোগসাজশে সরকারি অনুমতি ও দরপত্র ছাড়াই, চর এলাহী ইউপিস্থ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির প্রায় ৪৫টি গাছ কেটে তার তদারকিতে পরিচালিত চর মন্ডলিয়া গ্রামের ষ্টীল ব্রিজ সংলগ্ন প্যালাসাটিং নির্মাণে বল্লি (খুঁটি) ব্যবহারের জন্য বিক্রি করে দিয়েছেন। উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ গাছ গুলোকে স্থানীয় ভাষায় পবন (ঝাউ) গাছ বলে। স্থানীয় সূত্র দাবি করে, ৪৫টি গাছের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকার উপরে।

অভিযোগ সূত্রে ঘটনার বিবরণে জানা যায়,সম্প্রতি চর এলাহী ইউপির ষ্টীল ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের নিচের একটি অংশ ভেঙ্গে খালে বিলিন হচ্ছে। ২৪ জুলাই সোমবার এ ভাঙ্গন ঠেকাতে উপজেলা পরিষদ জনস্বার্থে তাদের নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক কে তদারক করে এবং শ্রমিক সর্দার ইয়াকুব এর মাধ্যমে সড়ক রক্ষায় প্যালাসাইটিং কাজ শুরু করেন।

অতঃপর কৌশলে ইউপি চেয়ারম্যান এ প্যালাসাইটিং কাজে ব্যবহারের জন্য তার নিজ ইউনিয়নের বিশ্ববেড়িবাঁধের উপর এনজিও সংস্থা (নেপচুন) এর সামাজিক বনায়নের ৪০টি পবন গাছ কেটে প্যালাসাইটিং কাজে তার তারতদারকিতে ব্যবহার করছে। এছাড়া আরো প্রায় ৩০টি পবন গাছ নির্মাণাধীন প্যালাসাইটিং সংলগ্ন ষ্টীল বিজ্রের কাছে স্তপ করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.শহীদুল ইসলাম’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,কর্তিত গাছ গুলোকে ঝাউ গাছ বলে। এগুলো বন বিভাগের গাছ নয়,তবে এনজিও সংস্থা (নেপচুন) সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছ গুলো রোপন করে। গাছ গুলোর উপকারভোগী থাকতে পারে,তবে তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দরপত্র পরবর্তি অনুমতি ছাড়া কোন সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি এবং ব্যবহার করতে পারবেনা। যা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে চর এলাহী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি গণমাধ্যম কর্মিদের জানান,জনস্বার্থে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে গাছ গুলো ক্রয় করে নিয়েছে শ্রমিক সর্দার। যেহেতু সড়কটা দ্রুত ভেঙ্গে যাচ্ছে,জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত প্যালাসাইটিং কাজটা সম্পন্ন করার জন্য, সময় সল্পতার কারণে দরপত্র নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি গণমাধ্যম কর্মিদের কাছে দাবি করেন, শ্রমিক সর্দার গাছ গুলো ক্রয় করেছে,তিনি বনায়নের গাছ কাটা এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত নয়। এ সময় চেয়ারম্যানের কাছে গণমাধ্যম কর্মিরা শ্রমিক সর্দারের মুঠোফোন নম্বর চাইলেও এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত শ্রমিক সর্দারের মুঠোফোন নম্বর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কাজ করা হচ্ছে। এখানে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামিরুল ইসলাম জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠান তিনি। এ ব্যপারে আরো খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Top