অভাবের সংসারে দু’বেলা খেয়ে বাঁচতে ১০ বছরের স্কুল ছাত্র রহিম ভ্যানচালক

unnamed-3.jpg

রুবেল আকন্দ:-
ত্রিশাল উপজেলা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রহিম ভ্যান চালায়। মাত্র ১০ বছর বয়সেই সংসারের জোয়াল এসে পড়েছে এই শিশুর ঘাড়ে। বৃদ্ধ বাবা ইউনুস আলী শারীরিক প্রতিবন্ধী। ময়মনসিংহ ত্রিশাল উপজেলা ১নংধানিখোলা ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের স্কুল ছাত্র আব্দুর রহিমের জীবন সংগ্রাম কঠিন। ৮নং ধানিখোলা উত্তর ভাটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র রহিম। স্কুলে লেখাপড়া চালিয়ে যাবার পাশাপাশি সে ডামের মোর ধানিখোলা-বইলর রোডে ভ্যান চালায়। তার হতদরিদ্র পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্যই শিশু বয়সেই তাকে পথে নামতে হয়েছে। তার বাবা ইউনুস আলীর নাকে ছিদ্র, মা হেলানাও অসুস্থ। বৃদ্ধ পিতা-মাতার সংসার চলে না। অভাব অনটনে জর্জরিত পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করেন। বাবা মায়ের ৩ মেয়ে ও ৩ ছেলে সন্তানের মধ্যে রহিমই সবার ছোট। বড় ভাই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, সংসার আলাদা। তারা পারে না প্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে। তাই ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হয়ে রহিমকে শিশুশ্রম দিতে হচ্ছে। যে বয়সে তার হাতে খেলনা, বই কলম থাকাই স্বাভাবিক, সেই বয়সে তাকে ধরতে হয়েছে ভ্যানগাড়ির শক্ত হ্যান্ডেল। গত ৬ মাস ধরে এভাবেই কঠিন জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ রয়েছে রহিম। দেখার কেউ নেই। রহিমের বাবা মায়ের শেষ আশা রহিম স্কুল জীবন শেষ করে মানুষ হয়ে নিজের দুঃখ কষ্টকে জয় করতে পারবে।

Top