নিম্নমানের কাজের ফলে মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস: সোস্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

FB_IMG_1531666666296.jpg

এম এ এহসান রিয়াজ(লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি):
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় নির্মিত বাঁধের দক্ষিণ অংশে রোববার সকালে এ ধস নামে।
আকস্মিক এ ধসে বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার এলাকার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বিশেষ ব্যাগ) ড্রাম্পিং ও ব্লক স্থাপন না করাসহ নিন্মমানের কাজের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগেও বাঁধটির বিভিন্ন অংশে কয়েকবার ধস নামে। এ নিয়ে রোববার সকাল থেকে নিন্মমানের কাজ হওয়ায় বারবার ধস নামে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
জানা যায়, ২০১৪ সালে সরকার নদীভাঙন ঠেকাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। বরাদ্দকৃত টাকায় গত তিন বছরে কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় এক কিলোমিটার, রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার ও রামগতিরহাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালে কমলনগর উপজেলার এক কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু করে সম্প্রতি তা সম্পন্ন করেন। এর জন্য ব্যয় হয় প্রায় ৪৮ কোটি টাকা।
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বাঁধের দক্ষিণ অংশে হাঠাৎ করে ধস নামে। ধসের কারণে বাঁধ ভেঙে ড্রাম্পিং করা জিও ব্যাগ ও ব্লকসহ প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্ষার শুরুতেই পানির চাপে বাঁধে এ ভাঙন দেখা দেওয়ায় বাঁধের পুরো অংশই এখন হুমকিতে রয়েছে। যে কারণে, বাঁধের আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণেই বাঁধটিতে ধস নেমে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগেও নির্মাণের শুরু থেকে বাঁধটির বিভিন্ন অংশে কয়েকবার ধস নামে। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী নদীর ভিতরে ৪৫ মিটার জিও ব্যাগ ড্রাম্পিং ও যথাযথভাবে ব্লক স্থাপনের কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজটি সম্পন্ন করেন।
মো. রিপন, ওমর ফারুক ও আবুল কালামসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বাধটি নির্মাণের শুরু থেকেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনিয়ম করেন। যথাযথভাবে জিও ব্যাগ ড্রাম্পিং না করে উল্টো নিম্নমানের বালু ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করেন। এছাড়া নিম্নমানের ব্লক তৈরি করে তা স্থাপনেও ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। যে কারণেই বাঁধটির বিভিন্ন অংশে বারবার ধস নামছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রজেক্ট ইনচার্জ নুরুল আফসার দাবি করেন, বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি। কার্যাদেশ অনুযায়ীই তারা কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তবে বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে বাঁধের ওই অংশে ধস নেমেছে।
তিনি বলেন, ‘ধস নামার সঙ্গে সঙ্গেই ওই অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ড্রাম্পিং কর হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় চার হাজার জিও ব্যাগ ড্রাম্পিং করা হয়েছে। বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ ড্রাম্পিং করা হবে।’
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা জানান, ধসের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ড্রাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Top