সাঁকোর টাকা অাত্নসাৎ-স্কুলে যেতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা !!

20180625_120657.jpg

আকতারুজ্জামান তালুকদার,
জামালগঞ্জ(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি::

জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে সাঁকোর টাকা অাত্নসাধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এতে করে সাঁকো নির্মান না হওয়ায় স্কুলে যেতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়,ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য গত ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁশের সাঁকো নির্মানের জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।বরাদ্দকৃত টাকায় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গত বর্ষায় ফেকুল মাহমুদপুর ব্রীজ থেকে মাদ্রসা পর্যন্ত সড়কে লোকজন যাতায়াতের জন্য গ্রামের মানুষের সেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে দেওয়া হয়।বর্ষা শেষে এই বাঁশ বিক্রি করে গ্রামবাসীর আপত্তির মুখে ইউপি সদস্য নিজের কাছে রেখে দেয়।রাস্তায় মাটিভরাটের আগ পর্যন্ত এই সরকারি টাকা দিয়ে বর্ষা মৌসুমে সাঁকো নির্মান করে দিবে বলে তখন জানানো হয়।বর্ষার দুইমাস অতিকান্ত হলেও এখনো সাঁকো নির্মান হয়নি।এছাড়া কারেন্টের বাজারের ব্রীজের ৭৪ হাজার টাকার সরকারি বাঁশও তার বাড়ীতে রয়েছে।

গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানাযায়,আমরা ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে উক্ত গ্রামের আরও দুটি খালে বাঁশের সাঁকোর তৈরী করে যাতায়াতের সুবিধা করেছি।যাতে বর্ষায় স্কুল কলেজ মাদ্রসা শিক্ষার্থী সহ গ্রামের লোকজন সহজেই যাতায়াত করতে পারেন।বর্ষা শেষে গ্রামের অর্থায়নে তৈরীকৃত সাঁকোর বাঁশ নিলামে বিক্রিয় করে উপযুক্ত জিম্মাদারের নিকট অবশিষ্ট টাকা জমা রেখে দেই।জামাকৃত টাকা দিয়ে এবছরও চলাচলের সুবিধার্তে উক্ত স্থানে সাঁকো তৈরী করেছি।

কিন্ত ইউপি সদস্যর নিকট জমাকৃত টাকা বা বাঁশ না দেওয়ায় আমরা সম্পুর্ণ সাঁকো দিতে পারছিনা।স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান সরকারি বরাদ্ধের টাকায় ব্রীজ থেকে মাদ্রসা পর্যন্ত মেইন রাস্তার সাথে সাঁকো সংযুক্ত করে না দেওয়ায় লোকজন চলাচলে চরম সমস্যায় পড়েছি।

গ্রামের মুরুব্বী সাবাজ মিয়া,অাব্দুর রাজ্জাক,দুলামিয়া,কালামিয়া বলেন, ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান গেল বছরের সরকারি টাকার সাঁকোর বাঁশ বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা নিজ জিম্মায় রেখে অাত্নসাধ করেছেন।বাঁশ বিক্রির সময়ে আমরা সহ গ্রামের লোকজন সাঁকোর বাঁশ বিক্রির টাকা গ্রামের সাঁকো নির্মান তহবিলে জমা দেবার জন্য বার বার বলিলেও উক্ত সাঁকোর বাঁশ বিক্রির টাকা ইউপি সদস্য জমা দেন নাই।তখন জিল্লুর রহমান আমরা গ্রামবাসী কে চলতি বছর সাঁকো তৈরী করে দিবে বলে নিজের কাছে সরকারী টাকা রেখে দেন।এবছর পানি আসার পর থেকে আজকে পর্যন্ত আমরা সড়কে সাঁকো তৈরী করে দেবার কথা বলে আসলেও ইউপি সদস্য আমাদের সাথে নানা তালবাহানা শুরু করেন।পানি আসার পরও সড়কে সাঁকো তৈরী করে দিতে অহেতুক বিলম্ব করছেন।

তারা আরও বলেন,ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান সরকারি সাঁকোর বাঁশ বিক্রির সমুদয় টাকা অাত্নসাধ করায় ও ব্রীজ থেকে মাদ্রসা পর্যন্ত সাঁকো নির্মান না হওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।ঠিকমতো গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছেনা।

গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট ইউপি সদস্যর এহেন আচরণ ও তার কাছ থেকে সরকারি সাঁকোর বাঁশ বিক্রির টাকা আদায় করে উক্ত স্থানে সাঁকো নির্মানের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত ২ নং ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান জমাকৃত টাকার কথা স্কীকার বলেন,বাঁশের সাঁকোর টাকা আমার কাছে রয়েছে।আমি চেষ্টায় আছি সাঁকো তৈরী করে দিতে।কবে সাঁকো তৈরী করে দিবে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য কোন সদোত্তর দিতে পারেনি।

এ ব্যাপারে ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো:দুলাল মিয়া বলেন,আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বলেছি জমাকৃত বাঁশ বিক্রির টাকা দিয়ে এই সাঁকোটি নির্মান করে দিতে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান বলেন,লোকজনের সমস্যার বিষয়টি আমি জেনেছি ভীমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে বলে দেব উক্ত স্থানে সরকারি টাকা দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে দেবার জন্য।যাতে লোকজন সহজে যাতায়াত করতে পারে।

Top