দূরন্তপনা মানেই দুচোখে বিশ্ব দেখা

received_1364398310371362.jpeg

মোঃ আব্দুল মুনঈম, স্টাফ রিপোর্টার :

স্মৃতিতো কেড়ে নেয় হাতের শতকাজ আলস্যদুপুর জুড়ে পেতে দেয় তন্ময় শৈশবের স্বপ্নবিছানা;
যেনো আজও পুকুরের মৃণাল জড়িয়ে যায় হাতেপায়ে আর জলভরা গামছা টেনে তোলার শ্রান্ত অবস্বাদ; বেদনার বালি মুছে হয়েছে রক্তপাত।

স্মৃতিতো ঘরে ফেরার গোধূলী আবীর; মায়ের চোখের অপেক্ষাজল দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সান্ধ্যকালীন একটি প্রহর। স্মৃতিতো মায়ের শাসন, বাবার আদর অষ্টপ্রহর মোমগলা রাত্রিজুড়ে রূপকথার গল্পাসর।

স্মৃতিতো থামিয়ে রাখে এই চলাচল, নিথর জলে অহরহ।

আর গাঁয়ের দক্ষিণ পাশে ছোট ছোট পুকুর গুলো লাফ দিয়ে সাঁতার কাটা আঁকা বাঁকা খাল গুলিতে বাদ দিয়ে সেচ করে মাছ ধরার সেই দিন গুলি কি করে ভুলি? অবাধ্য জীবনের দুরন্ত স্মৃতি গুলি এখনো মনে হয় ছুটে যাই সেই গাঁয়ে, ডেকে নেই সব বন্ধুদের, আবার দল বেঁধে নিয়ে সেই শৈশবে পথে ছুটে যাই।

আমার ছোট চোখ দুটি যদি হয় অতীতের স্বপ্ন ধরে রাখার দূরবীন, তাহলে আমার ছোট বেলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন সেই অতীতের স্বপ্ন ধরে রাখা সারি সারি করে সাজানো একেকটা মহা মূল্যবান শো পিছ।

আমি ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না। ছোট বেলার সেই দিন গুলি যেন একটা জীবন্ত চিত্র গুলি জীবনের স্মৃতির পাতায় এ্যালবাম হয়ে আমার পেছনে হেঁটে বেড়ায় সর্বক্ষণ। আমাকে মাঝে মাঝে স্মৃতির কাতর করে, টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় সেই মাটির আঁকা বাঁকা মেঠো পথে, মটরশুঁটির লতায়, হলুদ সরিষা ফুলের ক্ষেতে মাঠ, গ্রামের ছোট ছোট নালা – দীঘির জলে, শাপলা ফোঁটা ঝিলের ধারে; আম গাছের তলায়, জাম গাছের মগ ঢালে, শীতের সকালে কুয়াশা চাঁদরে মোড়া খেজুর গাছের তলে, মাটির কলসে ভরা সেই টাটকা স্বাদের রসের কাছে।

সুনিবিড় শান্তির নীড়, দক্ষিণের খোলা জানালা, সারি সারি সুপারি গাছের সাথে মায়ের নষ্ট হয়ে যাওয়া আঁচলের টুকরো দিয়ে বাধানো দোলনায়, টলমল পুকুরের পানি, আমাকে আজও হাতছানি দিয়ে জাগ্রত করে। ছোট বেলায় গ্রামের মাটির ঘর বাঁশের বেড়া নেড় দিয়ে বাঁধা চাল, ঘন সেই সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য শ্বাস-নিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি। এখনকার গ্রামের ইট পাথরের জীবনে যখন হাঁপিয়ে উঠি, বুকের গভীর ভিতরের জমানো হতাশাটা যখন বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আরামদায়ক খাটে শরীরটা হেলিয়ে নিদ্রায় দেই, তখন আমার চোখের সামনে খেলা করে দিগন্ত বিস্তৃত শস্য-শ্যামল সবুজ খোলা মাঠ, নীল আকাশের মুক্ত তারা, সোনালী ধানের শীষ।

আমি যেন শৈশবের আগের মত শুনতে পাই রাখালের সেই মধুমাখা বাঁশের বাঁশির সুর, মাঝির দরদি কণ্ঠের ভাটিয়ালি গান। আমি শৈশবের জীবনকে যতই পথের বাঁকে পিছনে ফেলে আসছি, বর্তমানে গ্রামের জীবনের সাথে খাপ মিলাতে চাই, ততই ফিরে যাই আমার শৈশবের শিকরে। আমার ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো আমাকে তাড়িত করে মৌলিক জীবনের পথে। আমি ভুলে যাই মেঠো পথ, সতেজ বাতাস, পাখির গান, ফুলে ফুলে প্রজাপতির নাচ।

শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত যেখানে একেকটা মহামূল্যবান শো পিস, সেখানে কোনটাই চেড়ে দেওয়া যায় না বারবারই চলে আসে স্মৃতির পাতায়। কোনটাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করি, কোনটাকে নিয়ে স্বপ্নের তুলি দিয়ে ছবি আঁকি। শৈশবের প্রতিটি দিন যেখানে মধুভরা, আনন্দময় ছিলো সেখানে কোন দিনটা বিশেষ ভাবে স্মরণ করি।

শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দরী লাস্যময়ী নারীর ভুবন জয় করা হাসির মত, ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে থেকে যায়। রমণী হারিয়ে গেলেও যেমন হাসির রেশটা থেকে যায় মনের গভীরে ঠিক তেমনি ছোট বেলার দিন গুলি ফেলে এলেও দখল করে নেয় হৃদয়ের সমস্ত জমিনটা।

শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর ডানপিটে জীবন যাপন আমার আপনার আর এই শিশু গুলো মত প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আসুক দুরান্তপনার অনাবিল সুখ শান্তি সমৃদ্ধি এই কামনাই করি।

Top