সুনামগঞ্জ -৫ আসনে জাহাঙ্গীর আলম গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ায় উজ্জীবিত ছাতক-দোয়ারার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা

36913604_1598871226908256_218730993484300288_n.jpg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া ::
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র পাশাপাশি সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে বলে জানাগেছে। দলগতভাবে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি এরশাদের নেতৃত্বে গঠিত সম্মিলিত জাতীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদেরকে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জোট প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
জাপার একটি সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে দল ও জোটের প্রায় ৯০০ শতাধিক প্রার্থী প্রচারণায় থাকলেও তার মধ্যে থেকে অন্তত দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় পার্টি, এমন তথ্য জানিয়েছেন দলটির বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক। এক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ-৪ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন জাপা’র কেন্দ্রীয়
নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দোয়ারাবাজার উপজেলা জাপা’র সভাপতি আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন জাপা’র কেন্দ্রীয় সদস্য আ ন ম অহিদ কনা মিয়া। তিনিও সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক পর্যায়ে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তিনশ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট হলে এই তালিকা সত্তরের ঘরে নেমে আসতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি আরো ৩৫সহ মোট ৭০টি আসন আওয়ামী লীগের কাছে দাবি করবে জাতীয় পার্টি।
এদিকে সুনামগঞ্জ -৫ আসনে জাহাঙ্গীর আলম গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ায় উজ্জীবিত ছাতক-দোয়ারার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার জাতীয় পার্টির একাধিক দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সুনামগঞ্জ -৫ আসনে মহাজোটকে ছাড় দেওয়ার কারণে একসময়কার জাতীয় পার্টির ঘাটি খ্যাত এই আসনটি দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগের দখলে রয়েছে । দীর্ঘদিন এই আসন আওয়ামীলীগের দখলে থাকায় দলের অনেক পুরোনো নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে চলে যাওয়াতে জাতীয় পার্টির প্রায় মাঠশূন্য অবস্থায় হাল ধরেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা জাবা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। ইতোমধ্যে তিনি মাঠে নিরলসভাবে কাজ করে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা থাকায় সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক ভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পর থেকেই তৃনমুল পর্যায়ে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দেরও সুদৃষ্টি কেড়েছেন । জাপানেতা জাহাঙ্গীর আলমের সাংগঠনিক দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে উনাকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন জাপা’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনীত করলে হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলেও দাবি করেন ছাতক-দোয়ারার জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল একাধিক নেতৃবৃন্দ। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জাপা নেতা আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে কাজ করছি। রবিবার পল্লীবন্ধুর সাথে উনার বাসভবনে আমি দেখা করেছি। তিনি আমাকে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, দলের নীতি নির্ধারণী কমিটি সুনামগঞ্জ-৫ আসনের চূড়ান্ত তালিকায় আমার নাম রেখেছেন বলে শুনেছি। আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। আমার নির্বাচনী মাঠ গুছানো রয়েছে। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন আমার সাথে আছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ -৫(ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে লাঙ্গলের মনোয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান জাপা নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

Top