খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবী !

unnamed.png

মোহাম্মদ মনজুরুল আলম চৌধুরী:

কিছুদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে দেখেছিলাম অনেক নামী দামী হোটেলেকে মরা মুরগী কিনতে। ১৯৭৮ সালের দিকে কলেজে পড়ার সময় ফেরিঘাটে কুকুরের মাংস বিক্রি হতে শুনেছিলাম। আমরা গরুর গোস্ত মনে করে মহিষের গোস্ত খাচ্ছি অহরহ। সোনালীকে দেশী মুরগী হিসেবে হজম করছি। ভেড়ার মাংশ হয়ে যায় দামী খাসীর মাংশ। আমরা যেন ভেজালের একটি মহোৎসবের দেশে বসবাস করছি। আমরা প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে, জেনে শুনে বিষ পান করার মতো বিষে ভরা ভেজাল আর নকল খাদ্য খাচ্ছি, পান করছি। বলা ভাল খেতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের দেশে খাদ্যে ভেজাল এখন আর গোপন কোন বিষয় নয়, নয় রাখ ডাকের কোন ব্যাপার বরং এটা সবার কাছে ওপেন সিক্রেট। আমরা যেন ধরেই নিয়েছি যে আমাদেরকে বিষাক্ত, ভেজাল, নকল খাবার খেতেই হবে তাই আমরা প্রতিদিন আমাদের খাবারের সাথে সানন্দে বিষ খেয়েই যাচ্ছি। বিষ ? হ্যাঁ বিষ খাচ্ছি প্রতিদিন প্রতিক্ষণ। কিসে নেই বিষ ? তা বলা মুশকিল বৈকি! গত ১৯ মে’১৮ তারিখের সুপ্রভাত বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, “পাকা আমের কাঁচা বীচি ! স্টেশন রোডে অবস্থিত ফলের বাজার ‘ফলমণ্ডি’ এর আড়তগুলোতে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদকৃত মৌসুমি ফল আম-লিচুতে ফরমালিন সহ অন্যান্য বিষাক্ত কোনো ধরণের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করতে গত( ১৮ মে’১৮ ) বিএসটিআইয়ের কেমিক্যাল পরীক্ষক দলকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসন। এওএসি পদ্ধতিতে ফরমালিন টেস্টে দশটি আম ও লিচুর নমুনা উত্তীর্ণ হওয়ার পর কয়েকটি আম ও লিচু কেটে দেখা যায়, ফলের ভেতরের বীচি আংশিক কাঁচা”। অনেকে সন্দেহ করছেন আম ও লিচু পাকানোর জন্য ইথোফ্রেন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়েছে।

মানুষের জীবনধারণের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য আর পানীয় অপরিহার্য। খাদ্য ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব ব্যাপার আর সেই খাদ্য হতে হবে স্বাভাবিক, নিরাপদ, বিষ মুক্ত। যা মানবদেহের কোন ক্ষতি করবেনা, মানুষকে সুস্থ রাখবে, মানুষের মৃত্যুর কারণ বা জটিল রোগে আক্রান্ত করবেনা, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য কোন ভয়ংকর বা ভয়াবহ ঝুঁকি হবেনা, বিকালংগ করবেনা, অঙ্গহানি বা জটিল রোগ বা মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত করবেনা। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের চট্টগ্রামে বা দেশে এখন নিরাপদ, স্বভাবিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত, স্বাস্থ্য ঝুঁকি হীন কোন খাবার আর পানীয় নেই বললেই চলে। শাক সব্জী, তরি তরকারি, ফলমূল,মাছ মাংশ, চালডাল, বেকারী সামগ্রী, পেকেটজাত বা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য দ্রব্য, তরল বা জুস জাতীয় পানীয়, ভোজ্য তেল ঘি ডালডা ,বিভিন্ন মশল্লা, বাটার, সস, চকোলেট, চিপস সবকিছুতেই ভেজাল আর বিষ মেশানো অথবা নকল। কেউ কি কোন কালে ভেবেছিল বাংলাদেশের মানুষ বোতলের পানি কিনে খাবে? ওয়াসার পানি দূষণ, আয়রনের মত্রারিক্ত উপস্থিতি এবং পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের কারণে মানুষ বোতলজাত বা জারের পানি কিনে খেতে এখন বাধ্য হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য সেই পানিতেও ভেজাল। নকল হচ্ছে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বোতল জাতীয় বিভিন্ন পানীয়। তাছাড়া ফরমালিন, ইউরিয়া সার ,মুবিল, পলিথিন, কার্বাইড, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, হাইড্রো, কীট নাশক বিষ, কাপড়ের রং বা কালারিং এজেন্ট, মেলামিন, সোডিয়াম সাইক্লোমেড, ইঞ্জিনের পোড়া তেল, পোড়া মুবিল, হরমোন, গরু মোটা তাজা করণ টেবলেট এবং সালফারিক এসিড সহ অনেক ধরণের কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ বা দ্রব্য সবকিছু খাদ্য হয়ে ঢুকে যাচ্ছে মানুষের পেটে। বিভিন্ন হোটেলে যে তেলে পরাটা, সমুছা, সিংগারা সহ বিভিন্ন পদ ভাজা হয় সে তেল কবে কখন ঢালা হয়েছে বা মিষ্টি তৈরির পাত্রের সেই সিরা তাঁদের বাপ দাদার কার আমলে ঢালা হয়েছে তা বুকে হাত দিয়ে সঠিকভাবে কেউ বলতে পারবেনা বা স্বীকার করতে চাইবে না। সেই তেল বা সিরা বছরের পর বছর যুগের পর যুগ চলছেই তো চলছে। মিষ্টির দোকানে তেলেপোকা, ছারপোকা, ইঁদুর ইত্যাদির উৎপাত কমবেশি সকলের জানা। খাদ্য ভেজাল কারীদের কাছে বাসী বলে কিছুই নেই তা আবার নতুনের সাথে যোগ হয়ে ফ্রেশ খাদ্য দ্রব্য হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি পবিত্র রমজান মাসে বিভিন্ন অভিজাত হোটেল রেস্তোরাঁয়, দোকানে, রাস্তায় রকমারি রঙয়ের বিভিন্ন পদের ইফতারি সাজিয়ে রাখা হয় বিক্রির উদ্দেশ্যে এবং এসব কিনে খেতে অনেকেরই ইচ্ছে করে, লোভ জাগে। প্রায় অনেকেই গাঁটের পয়সা খরচ করে ভেজাল আর বিষাক্ত ইফতারি কিনেছেন। একই তেল দিয়ে দিনের পর দিন ইফতারি ভাজা হয়েছে , বাসী পোচা খাবার মেশানো হয়েছে, নোংরা অস্বাস্থ্যকর স্থানে তা বানানো হয়েছে। হোটেল রেস্তোরাঁর এসব কর্মকাণ্ড শুধু রোজাতেই নয় সারা বছর ধরেই চলে থাকে। বিভিন্ন সময় আমরা বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট খাবার দোকানে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে দেখি জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহ অনেককেই। যেমন গত ৩০ মে’১৮ তারিখে সুপ্রভাত বাংলাদেশে প্রকাশিত দু’টি খবরে দেখা যায়, মূল্য তালিকা না ঝুলানো, মেয়াদোত্তীরণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অপরাধে নগরীর তিনটি মিষ্টির দোকান, তিনটি কাঁচা সব্জীর দোকান ও একটি রেষ্টুরেন্টকে ১ লাখ ১ হজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং নোংরা পরিবেশে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করার অপরাধে নগরীর দস্তগীর হোটেল সহ ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে ৩১ মে’১৮ তারিখের সুপ্রভাত বাংলাদেশে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী তৈরি ও সংবাদপত্রে সংরক্ষণ করার অপরাধে আন্দরকিল্লার নিউ মদিনা রেস্তোরাঁকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে আসকারাবাদ এলাকায় পকাযুক্ত বেগুন দিএ]ইয়ে বেগুনি তৈরি ও একই ফ্রিজে ফ্রিজে কাঁচা মাছ মাংশের সাথে খোলা অবস্থায় প্রস্তুতকৃত খাবার সংরক্ষণের জন্য তায়েফ হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সত্যিকার অর্থে এসব হচ্ছে চট্টগ্রামে প্রতিদিনের ভেজাল কর্মকাণ্ডের, মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রতিদিনের চালচিত্র। অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলেও সত্য তাঁদের ভেজাল খাদ্য দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হচ্ছে, লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। তথাপি থামানো যাচ্ছেনা ভেজাল মিশানো খাদ্য দ্রব্যব বা, নকল খাদ্য দ্রব্যের উৎপাদন।

শুধু কি খাদ্যে ভেজাল ? না তা নয় মোটেও। মানুষের জীবন মরণের সেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও নয় ভেজালের ঊর্ধ্বে। গত ১৬ মে’ ১৮ তারিখের সুপ্রভাতের একটা খবরের শিরোনাম হচ্ছে “নামকরা কোম্পানির ঔষধ অবিকল নকল” সরবরাহ হাজারী গলি থেকে, বিক্রি অলিতে গলির ফার্মেসীতে। উক্ত প্রতিবেদনে মানুষের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ঔষধের নকলের ভয়াবহ ও ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিক, কিডনী সহ বিভিন্ন ঔষধের অবিকল নকল বাজারে চেয়ে গেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল রিপোর্ট তৈরি হয়। অনেক সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রিপোর্ট তৈরি করে এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তার কর্তৃক উক্ত রিপোর্টে সীল ছাপ্পর মেরে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়। পাশপাশি ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া অন্য স্থান থেকে পরীক্ষা করালে সেই রিপোর্ট গুলো তাঁদের কাছে গৃহীত বা গ্রহণযোগ্য হয়না কোন এক অজানা কারণে। অন্যদিকে বিভিন্ন অভিযানে ভুয়া ডাক্তারদেরও জেল জরিমানা করতে দেখা যায়। কোথাও ভেজাল, নকল দ্রব্য উৎপাদন থামানো বা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। মানুষের মানবিক, নৈতিক, সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় রীতিনীতি অনুশাসন না মানার বা তোয়াক্কা না করার একটা হীন মন মানসিকতা অনেকের মধ্যে কাজ করছে। মানুষ মরুক আর বাঁচুক তাতে আমার কি? আমার ব্যক্তি স্বার্থ সবার ঊর্ধ্বে ন্যায়, নীতি, সততা সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেকে বড় লোক বা ধনী হতেই হবে। ধনী হওয়ার অশুভ, অনভিপ্রেত, অনাকাংখিত প্রতিযোগীতা এক শ্রেণীর মানুষকে পশুতে, দানবে পরিণত করছে। খাদ্যে ভেজাল ,নকল, মজুদদারীর মাধ্যমে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং ঔষধের কৃত্রিম সংকট করে অনেকেই রাতারাতি ধনী বা বড়লোক হয়ে যাচ্ছে। এসব মানুষের মধ্যে বিবেক, বিচার বুদ্ধি, জন সচেতনতা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সামজিক অঙ্গীকার, ধর্মীয়, নৈতিক, মানবিক মূল্যবোধ কাজ করেনা। টাকা কামানোর মরণ নেশায় এরা অনুভূতি, সহানুভূতি হীন কৃত্রিম রবোটে পরিণত হয়েছে। শুধু টাকা গুণছে খাদ্যে ভেজাল করছে, নকল দ্রব্য সামগ্রী তৈরি করছে।

আমরা যদি ভেজাল খাদ্য, ঔষধ ডাক্তার রিপোর্ট এসব জিনিষগুলো বিবেচনায় নেই তাহলে দেখা যাবে আমাদের দেশের প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে অতি মুনাফা করার একটা হীন মন মানসিকতা কাজ করছে। তাঁদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য শর্টকাট পদ্ধতিতে ধনী বা বড় লোক হওয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে মানুষ খুন করতেও দ্বীধাবোধ করছেনা। তারা সাধারণ মানুষের নীরব ঘাতক রূপে নিজেদেরকে দায়মুক্ত ভাবতে পারেনা কোন অবস্থাতেই। আর এসবের প্রভাবে কিডনি, ফুসফুস, যকৃত নষ্ট, ও স্মরণ শক্তি হ্রাস, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, বন্ধাত্ব, কিডনিতে পাথর ও ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।দৈনন্দিন আমরা যেসব খাবার খাচ্ছি সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য বা পদার্থ মেশানো হয়। যা ধীরে ধীরে মানব শরীরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। শরীরে বাঁধে দুরারোগ্য ব্যাধি। মানুষকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে।

আমাদের দেশে ভোক্তা অধিকার আইন আছে তবে তার কার্যকারিতা শুধু নিয়ম মেনে ভেজাল বিরোধী অভিযানের মধ্যেই সীমিত। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বি এস টি আইয়ের উচিৎ বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন বন্ধের জন্য জনগণের প্রতি দায়ব্ধতা, সততা, সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যত আর সুস্বাস্থ্যের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সমন্বিত এবং কার্যকরী কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা। অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে এদেশে ভোক্তা অধিকার আইন থাকলেও অনেকেরই এই আইন সম্বন্ধে কোন ধারণা নেই। মোটা দাগে বলা যায় দেশের প্রতিটি নাগরিক হচ্ছেন ভোক্তা। মানুষ পণ্য, খাদ্য, পানীয় দ্রব্য বা সেবা প্রদানকারী দ্রব্য গ্রহণ বা সেবা গ্রহণ বা ভোগ করে থাকেন বলে তিনি ভোক্তা। আমাদের দেশে যে ভোক্তা অধিকার আইন রয়েছে সেই ” আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো-ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কাজ প্রতিরোধ, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগ নিস্পত্তি, নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়া ব্যবস্থা, কোনো পণ্য বা সেবার ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা, পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্রতারণা রোধ এবং ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি”। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে ভোক্তা অধিকার আইনটির কোন কার্যকারিতা অদ্যাবধি সুষ্ঠুভাবে বা ন্যায় সংগতভাবে কার্যকর বা প্রয়োগ হতে দেখিনি। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দায়সারা, বিচ্ছিন্ন এবং বিক্ষিপ্ভাবে অভিযান পরিচালনা আর জরিমানা করার মধ্যেই তাঁদের কার্যক্রম বা দায় দায়িত্ব সীমিত রেখেছে। পাশাপাশি কিছুদিন পর আবার অভিযান পরিচালনা করলে দেখা যায় পূর্বের সেই চিহ্নিত সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। বরং অনেকক্ষেত্রে তার আরো অবনতি হয়েছে। জাতিগতভাবে যেখানে মানা বা নিষেধ সেখানে আমাদের অভ্যাস হল তা না মানা আর নিষেধ বা আইন ভংগ করা। ভোক্তা অধিকার আইন যুগোপযোগী করা, শাস্তিমূল্ক ব্যবস্থা গ্রহণ, পরবর্তী অভিযানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা গেলে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া, অন্য কোন নামে সেই অসাধু ব্যক্তিরা যেন আর কোন লাইসেন্স না পায় বা অন্য কোন ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সহ নানান ধরণের শাসিমূল্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব জরুরী। প্রয়োজনে মানুষের জীবন রক্ষাকারী খদ্য দ্রব্য, ঔষধ নকল বা ভেজাল কারীদের যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যন্য উন্নত দেশের মতো কঠিন শাস্তি মৃত্যু দন্ডের বিধান করা উচিৎ। খাদ্য ভেজাল কারী এবং নকল দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন কারীরা নীরবে মানুষ খুন করছে, মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যাচ্ছে। অতএব আমরা এসব মানুষ হত্যাকারী, খুনীদের ফাঁসি চাই। ফাঁসি।খাদ্যে ভেজাল রোধে ফাঁসি সহ কঠিন ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবী !

Top