তৃণমূলেই আওয়ামীলীগের আস্থাঃশিল্পমন্ত্রী ।

received_2150992368473174.jpeg

জাহিদুল ইসলাম পলাশ,ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমন্বয় করার জন্য জেলা গভর্ণর সিস্টেম চালু করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন জেলার সর্বময় ক্ষমতা থাকবে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে। তখন বঙ্গবন্ধু আমাকে ঝালকাঠি জেলার গভর্ণর হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু ৬৪ মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর এবং জেলা গভর্ণর সিস্টেম চালু করার আগেই পচাত্তর এর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সে পরিকল্পনাকেধ্বংস করে দেয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করার কাজে হাত দেন এবং তৃনমূল জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের আইন করেন। কারণ শেখ হাসিনা মনে করেন যারা তৃণমূলে জনসেবা করেন তারাই আসল জনসেবক এবং যারা তৃণমূলে দল করেন তারাই প্রকৃত দলের লোক। গতকাল শনিবার দুপুর একটায় ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পরিষদ আয়োজিত সংবর্ধনার জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন এদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নাম মুছে ফেলার জন্য ১৯৭৫ সালে শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয় বঙ্গবন্ধুর পর যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে পারে এমন নেতাদেরও জেল খানায় হত্যা করেছিল। কিন্তু তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শেকড় থাকায় ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে। আবার স্বাধীনতা বিরোধীরা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। সেই ষড়যন্ত্রের কারণেই ২০০১ সালে বিএনপি
জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। তারা ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে। ২০০৪ সালে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়। ২০০৪ সালে তাঁরা ব্যার্থ হলেও তারা থেমে নেই, এখনও তাঁরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে এদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের এ অপচেষ্টা কোন দিন সফল হবে না। তিনি আরও বলেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনেই অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরোধীতা করে আমেরিকার মত বড় বড় মোড়ল রাষ্ট্রের কাছে ধর্না দিচ্ছে। তবে কোন রাষ্ট্রের চাপে বা হুমকিতে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মাসেতু, পায়রা বন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলে রেল লাইন চালু করতে হলে আগামী নির্বাচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামীলীগ নির্বাচিত হতে না পাড়লে উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে যাবে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহ-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঝালকাঠি -১ আসনের সংসদ সদস্য ধর্মমন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব বজলুল হক হারুন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. লিয়াকত আলী তালুকদার, নলছিটি উপজেলা পরিষদচেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস লস্কর, রাজাপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রশীদ,শারমীন মৌসুমি কেকা ও আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ সালেক।

Top