বরিশাল বি এম কলেজেও রয়েছে ঔষধিগুণ সম্পন্ন দুর্লভ নাগলিঙ্গম গাছ

36815667_2150282745210803_4283246626601959424_n.jpg

জাহিদুল ইসলাম পলাশ :

আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। পৃথিবীর অনেক দেশে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে খুব কম দেখা যায়। ফুলটির পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো আর এ কারণেই হয়তো এর নাম নাগলিঙ্গম। জনশ্রুতি আছে—এই গাছের ফুল ও ফল একান্তই নাগ-নাগিনীর সম্পদ। নাগলিঙ্গমের ফল হাতির প্রিয় খাবার, এজন্য কোথাও কোথাও এটি ‘হাতিফল’ নামেও পরিচিত। এই ফুল সৌরভের জন্যও বিখ্যাত। এই গাছের পাশ দিয়ে যে কোনো সময় গেলেই এর তীব্র ঘ্রাণের মাদকতা মানুষকে টানবেই। বিরল প্রজাতির ফুলটির সৌরভে রয়েছে গোলাপ আর পদ্মের সংমিশ্রণ। আমাদের দেশেও কয়েক রঙের নাগলিঙ্গম ফুল রয়েছে। ভারতে এটি অন্তত চার হাজার বছর ধরে রয়েছে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বি এম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেনে নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে। প্রাচীন এ গাছটি আরো রয়েছে গাজীপুর রাজবাড়ি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নটরডেম কলেজ, রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন এবং বরিশালে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও রয়েছে এই গাছ। কার্জন হলের বাগানে এবং গুলিস্তান পার্কে আছে দুটি করে। গুলিস্তান পার্কের একটি গাছে ফলও হয়। ঔষধি বৃক্ষ হওয়াতে কিছু দেশে চাষ হলেও পৃথিবীতে এগাছ এখন বিলুপ্তির পথে। নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে অনেক ঔষধিগুণ। এর ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার হয় এর নির্যাস। এই গাছ থেকে তৈরি ওষুধ পেটের পীড়ার জন্য খুব উপকারী। পাতার রসও ত্বকের নানা সমস্যায় কাজ দেয়। ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে নাগলিঙ্গমের পাতার রস বিশেষ উপকারী। প্রকৃতি এবং আমাদের প্রয়োজনে এবং সুন্দর পৃথিবীকে আরো সুন্দর করতে নাগালিঙ্গম বেঁচে থাকুক চিরদিন।

Top