উন্নয়নের জোয়ারে ভাসমান মহেশখালী।

FB_IMG_1530695775911.jpg

– পানির নিচে গাড়ি চলাচলের নাম ডিজিটাল। কোমর পানিতে নেমে রাস্তা পারাপারের অাধুনিক নাম ডিজিটাল মহেশখালী। যে দেশে একটি সামান্য কালভার্ট তৈরী করতে কয়েক মাস লেগে যায়, সেই দেশ অাবার মধ্যম অায়ের দেশ। মহেশখালীর বিভিন্ন জায়গায় নতুন কালভার্ট তৈরীর প্রতিশ্রুতিতে পুরাতন কালভার্ট ভাঙ্গা হয়েছে গত ২/৩ মাস পূর্বে। কিন্তু এখনো পড়ে অাছে সেই ভাঙ্গা অবস্থায়।

– মহেশখালী নামের পূর্বে যখন “ডিজিটাল” শব্দটির সংযোজন করা হয়েছিল, তখন অামরা এর সঠিক প্রয়োগের স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম নতুনত্বের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাব। দেখতে দেখতে কেটে গেল ক’টি বছর। ঘুরে গেলেন কত মহাজন। পরিবর্তন হল কত ক্ষমতাধর। স্বপ্ন দেখালেন কত সুমিষ্টভাষী গলাবাজ। অার অামরা সাধারণ জনগণ তাতে কি উপকৃত হলাম??? অাবেগের বসে বিবেককে ঘুমিয়ে রেখে জেগে জেগে দেখে যাচ্ছি মিথ্যে স্বপ্ন। অাজকের দুঃসময়ের স্বপ্ন ডুবি হয়তো অাগত দিনের উন্নয়নের সূর্য নিয়ে অাসবে এই অাশায় পার করেছি কত দিবস রজনী। কিন্তু কি হল?

– ৫/১০ বছর পিছনে যান। এখনো সেই অাগের মহেশখালীই অাছে। জেটিখানা সেই এরশাদ অামলেরটাই। অাদিনাথ মন্দিরের অবস্থান ঠিক ওখানেই। অবকাটামোগত পরিবর্তন নেই বললেই চলে। অজ্ঞাত কারণে দৃষ্টিনন্দন অাদিনাথ জেটি জনসাধারণের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে না। সংস্কারবিহীন জেটিটি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রীতিমত একটা সময় এই সৌন্দর্য্যের প্রতিকও চিরতরে হারিয়ে যাবে। জনসাধারণের চোখে ধুলো দিতে রাস্তাঘাট মাঝেমধ্যে চাকচিক্য করা হলেও ভিত্তি সেই পুরানো। গুটি কয়েক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অাবকাঠামো পরিবর্তন হলেও বেশিরভাগ তখনকার অামলের। ঘূর্ণিঝড় অাশ্রয়স্থল গুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে অাছে পল্লী বিদ্যুৎ এর খুঁটির ন্যায় বাতাসের অাগেই ভেঙ্গে পড়ার অাতংকে। নিরাপদ অাশ্রয়স্থলটাও হারালাম। লোডশেড়িং যন্ত্রনার কথা বাদই দিলাম। দীর্ঘদিন ভোগের ফলে অভ্যস্থ হয়ে গেছি অামরা। মহেশখালীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী হতভাগাদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করার মত নয়। প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি, ঘুর্নিঝড় সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে এখন তাদের গভীর মিতালী। তারাও ভাল কিছু প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছেড়েই দিয়েছেন।

পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছি সেই কবে। কিন্তু এক বক্তব্যে প্রিয় মেয়র অানিসুল হক বলেছিলেন, “স্বপ্ন দেখ। স্বপ্ন যতই বড় হোক, মানুষের চেয়ে বড় হতে পারে না।” এই কথা মনে পড়তেই মহেশখালী নিয়ে অাবারো স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি। একদিন নিশ্চয় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে এই অবহেলীত দ্বীপে। অন্যতায় উন্নয়নের জোয়ারে তলিয়ে যাবে অামাদের মহেশখালী।

লেখক- এস. এম রুবেল, বার্তা সম্পাদক।

Top