কর্ণফুলীতে বাড়ির দেওয়াল ভেঙ্গে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ:

received_953430988170242.jpeg

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:
কর্ণফুলীতে এক নারী শ্রমিক ও তার পরিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারটি।

উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর ৪নং ওয়ার্ড বেলার বাপের বাড়ির রিজিয়া বেগমের ভিটে বাড়ির জমি দখল চেষ্টায় এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, জৈনিক আবুল বশর এর নিকট হতে ক্রয়সুত্রে ও স্বামীর মৌরশী সম্পত্তির মালিক হয়ে প্রায় ১২ বছর যাবৎ ঐ পরিবার বসতবাড়ী নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন।

প্রতিপক্ষ একই এলাকার মৃত আবুল বশরের পুত্র মোঃ ইসমাইল (৩০), হাজী দিল আহমদ এর পুত্র শফিক আহমদ (৪০) ও মোস্তাক আহমদ (৪৩), খায়ের আহমদ এর পুত্র শেখ আহমদ (৪০) অসহায় পরিবারের বসতবাড়ীর নির্মাণাধীন দেওয়াল ভেঙে মূল্যবান জমিটুকু জবর দখল করার চেষ্টা শুরু করে।

প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীদের প্রতিরোধ করতে না পেরে হারুনর রশিদ জাবের এর স্ত্রী রিজিয়া বেগম বাদী হয়ে উল্লেখিত বিবাদীদের বিরুদ্ধে জমি জবর দখলের অভিযোগ দায়ের করে কর্ণফুলী থানায়। যার পিপিআর নং ৬৯০।

আনিত অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল মতিন বলেন, “বিবাদীদের বার বার নিষেধ করা সত্বেও তারা জমিতে কাজে বাঁধা দিচ্ছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি”।

এদিকে গত ২৫জুন রিজিয়া বেগম এর নির্মানাধীন পাকা দেওয়াল ভাঙ্গচুর ও মারধর ভয়ভীতি হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়রী করে যার জিডি নং ৯৯০।

এমনকি ২৮জুন আদালতে দায়ের করা বাদিনীর এজাহার সুত্রে জানা যায়, স্বামীর মৌরশী সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য দেওয়াল তৈরি করতে গেলে অভিযুক্ত আসামীরা পাঁচ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি করে। এমনকি নির্মাণ শ্রমিকদেও মারধর ও হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নির্মিত পাকা দেওয়াল ভেঙ্গে দেয়। এবং বাদিনীকে মারধর করে জখম অবস্থায় হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এবিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রিট আদালতে (আমলী-৩) তিনি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। যা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্ত করার নির্দেশ দেয় বলে জানা যায়।

কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় থানার আদেশের তোয়াক্কা না করে জমি জবর দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস করলেও কোন সুরাহা হয়নি বলেও এলাকাসুত্রে জানা যায়।

বিতর্কিত জমির মীমাংসার জন্য স্থানীয় ভাবে গ্রাম্য সালিশে বসা কয়েকজন জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন সালিশিয়ানদের সিদ্ধান্ত না মানায় সালিশ অমীমাংসিত থাকে। তবে এখনো থানায় বৈঠকের কথা চলমান রয়েছে বলে জানান তাঁরা।

প্রতিপক্ষ মোঃ ইসমাইল জানান, “এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। জমিটার বিষয়ে ১৪৫ ধারা জারি রয়েছে। উভয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হতে দেওয়াল তৈরী করায় জামেলা হয়। এটা আমরা সালিশী বৈঠকে বসে সমাধা করবো”।

Top