সাতকানিয়ায় অভিযানে ধরা পড়ছে না মাদকের মূল হোতারা

IMG_20180629_151413-1.jpg

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযানে নামলে অনেক মাদক কারবারি গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয়। এখনো পর্যন্ত সাতকানিয়ায় পুলিশের অভিযানে মাদকের মূল হোতাদের কেউ ধরা পড়েনি। তবে পুলিশের দাবি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক আগে থেকেই এই অঞ্চল ছেড়েছেন। তাদের বাড়ি এখানে হলেও মূলত তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়েছে।
এ কারণে তাদের ধরা যাচ্ছে না। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে নানা জায়গায় কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম এমন টায় জানালেন পুলিশ কর্মকর্তা। গত কয়েক সপ্তাহের পুলিশি অভিযানে আটক হয়ে যারা কারাগারে গেছেন,তারা ছিঁচকে বিক্রেতা ও মাদকসেবী। একাধিক সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রয়েছেন। তারা নিয়মিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশে গাড়ি তল্লাশিতে ইয়াবা’র ছোট চালানসহ একাধিক পাচারকারীকে আটক করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর পর তাদের কারাগারে পাঠিছে স্থানীয় পুলিশ। সাতকানিয়ায় পুলিশের তালিকায় ১৮ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর নাম থাকলেও এর বাইরেও এলাকায় অনেক মাদক কারবারি রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। যারা মাদক করবারে জড়িয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ
বনে গেছেন। এদের কেউ কেউ রাজনীতির খাতাই নাম খুলে বসেছেন। যাতে কোনভাবেই ধরা না পড়ে, এমন কৌশল নিয়েছেন অনেকেই।
তাদের নাম পুলিশের তালিকায় না থাকায় এরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইয়াবা’র মূল কেন্দ্র টেকনাফ হওয়ায় যোগাযোগ
ব্যবস্থা ভালো থাকায় সড়ক পথে নানা কৌশলে সহজে সাতকানিয়ায় চলে আসে এ মাদক।
এখান থেকে ইয়াবা’র চালান বিভিন্ন কৌশলে কিছু অভাবগ্রস্ত লোকদের ব্যবহার করে দেশের নানা জায়গায় পৌঁছে দেয়া হয়। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
অভিযানে ইয়াবা’র ছোট ছোট চালান নিয়ে পাচারকারীরা ধরা পড়েলেও অদৃশ্য কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান মাদকের গডফাদাররা। এই কারণে মাদক ব্যবসায় নতুন করে অনেকেই জড়িয়ে পড়ে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে থেকে ২২ জুন পর্যন্ত অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৯শ পিস ইয়াবা ও ৮৯ লিটার মদ। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৫টি। তৎমধ্যে আটক হয়েছেন ৩৬ জন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল হোসেন জানান, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার আগেই মাদকের মূল হোতা বা কারবারিরা পালিয়ে গেছে। বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ি এখানে হলেও,তারা
মূলত দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গোপনে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করার ফলে তাদের ধরা যাচ্ছে না। এরপরেও আমরা তাদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
মাদক কারবারিদের ধরতে প্রতিদিন নানা জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক ছাড়াও যেকোন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না।

Top