বিকলাঙ্গ দুখু ডাক্তার হতে চায়

IMG_20180628_195655.jpg

আব্দুল মুনঈম,নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাইন্স ল্যাব ওভার ব্রীজের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম, চোখ পড়ল দৃষ্টিনন্দন কিছু লেখার প্রতি,দূর থেকে লেখা গুলো এতই ঝকঝক করছিলো যে একটা সময় আমার মনে হলো এমন লেখাগুলো যদি আমার হতো। কিন্তু পরক্ষনে আমি অবাক হয়ে আকাশ থেকে পড়লাম যে লিখতেছিলো,এই লেখা সে তার হাতে নয়,পায়ের সাহায্যে লিখতেছিলো।
সে বিকলাঙ্গ ছেলে,নাম মোঃ দুখু মিয়া,বয়স ১০ বছর। সে ক্লাশ থ্রিতে পড়ে। অভাবের সংসারে তাই নিজের পড়ালেখার খরচ ও বাড়ির দু মুটো ডাল ভাত জোগাতে দুখু নিজেই নেমে পড়েছে উপার্জনে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে গ্রাম গঞ্জের হাটে ব্যাস্ত শহরের ফুতপাতে নিজের পা দিয়ে লিখে মানুষ জনকে জানান দিচ্ছে আমিও শিখতে চাই, পড়তে চাই,আরো বড় হতে চাই, সাথে আমার পরিবারটাকে বাচাঁতে চাই।

অন্য দিকে জড়ো হওয়া লোকজন পাঁচ টাকা দশ টাকা করে তাকে উপহার দিচ্ছে।

কথা বলে জানা গেলো, শিশুটিরর বাবা মোঃ আসমাস আলী গরীব দিনমজুর ,মা মোছাঃ গোলেনুর বেগম গৃহিণী। আসমাস ও গোলে নুরের ঘরে তিন ছেলে এক মেয়ে, দুখুই এদের মধ্যে বড়। জন্মগত ভাবে দুখু বিকলাঙ্গ ছিলো।

দুখুদের বেড়ে ওঠা রংপুরের কুড়িগ্রাম জেলার রৈমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নের বকবান্ধা গ্রামে। অনান্য ভাই বোনদের মধ্যে আরিফুল (০৯) ক্লাশ থ্রিতে পড়ে বড় ভাইয়ের সাথে আল আমিন (০৬) প্রি প্রাইমারীতে পড়ে এবং ছোটোবোন আরফিনা এখনো মায়ের কোলেই খেলা করে। বড় ছেলে বিকলাঙ্গ বলে বাবা গ্রামে ভালো কোন কাজ পাননা বাজার এলাকায় মাঝে মধ্যে গ্যারেজ থেকে রিক্সা নিয়ে সামান্য উপার্যন করেন সংসার এবং ছেলে মেয়ে দের মানুষ করতে মা গোলেনুর তাই দুখুকে নিয়ে চলছে মানুষের দ্বারে দ্বারে।

অদম্য দুখু জানালো বিকলাঙ্গ বলে প্রথমত গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে তার বন্ধুরা তার সাথে ভালো করে মিশতে চাইতো না।
আমি শিখতে চাই,তাই প্রতিবন্ধী স্কুলে লেখা পড়া করতেছি। আমি অনেক অনেক বড় হতে চাই, আমি পড়াশুনা করে ডাক্তার হতে চাই।

Top