সুনামগঞ্জে রুট পারমিটহীন,লাইসেন্সবিহীন লেগুনা গাড়ি চালকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে

sunamgonj-leguna-pic-260618.jpg

জাহাঙ্গীর আলম ভুইয়া,স্টাফ রিপোর্টার,সুনামগঞ্জ :
সুনামগঞ্জে রুট পারমিটহীন,লাইসেন্সবিহীন লেগুনা গাড়ির বিরোদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে লেগুনার চালকরা। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে জেলার বিভিন্ন সড়কে। এই পরিবহন গুলোর কাগজপত্র না থাকায় দুর্ঘটনার পর আইনি কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় চালক-মালিক-শ্রমিকরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে রুট পারমিটহীন,লাইসেন্সবিহীন লেগুনা গাড়ি অবাধে চল করছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইলে যাত্রী জিম্মি করে ‘ভোগান্তির কর্মসূচি’ দিয়ে থাকে তারা। আর এই সুযোগে প্রশিক্ষণ বিহীন চালকরা বেশী বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। এজন্য ট্রাফিক বিভাগের উদাসীনতাকেও দোষছেন নাগরিকরা।
সুনামগঞ্জ বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় ৬০০ লেগুনা রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র ২৪২টি লেগুনার। তাছাড়া যারা চালক আছে তাদেরও বেশির ভাগেরই লাইসেন্স নেই। লেগুনার রুট পারমিট রয়েছে মাত্র ১৪ কি.মি.। কিন্তু প্রশাসনিক উদাসীনতা,এলাকার আধিপত্য দেখিয়ে মালিক-শ্রমিকরা প্রায় ৫০ কি.মি. পথ পাড়ি দিচ্ছে। নির্ধারিত রুট পারমিটের তোয়াক্কা না করেই তারা সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। লাইসেন্স বিহীন ও রুট পারমিট বিহীন ছাড়াই প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে ট্রাফিক বিভাগের উদাসীনতার কারণে অবাধে যাতায়াত করছে লেগুনা।
গত ২৪ জুন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ কান্তি দে-কে একটি বেপরোয়া লেগুনা ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। জেলার সচেতন নাগরিকরা লেগুনা সিন্ডিকেটের হাত থেকে যাত্রী ও নাগরিকদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা গেছে,তাদের এই দৌরাত্ম্য, দুর্ঘটনার কারণে সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মালিক সমিতি একাধিকবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বরাবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছিল। আবেদন গুলোতে তারা লেগুনা গুলোতে নির্ধারিত রুট পারমিটের মধ্যে নিয়ে আসতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএসহ সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতার কারণে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কয়েকজন মালিক-শ্রমিক নেতা নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন স্টেশনে যেসব ম্যানেজার রেখেছেন তারাও প্রায়ই যাত্রীদের নানা ভাবে হয় রানি ও লাঞ্ছিত করে। সংশ্লিষ্টদের কাছে চালক-ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসলে উল্টো প্রভাব দেখিয়ে ধমক দেওয়া হয়। তাছাড়া ট্রাফিক বিভাগকে ম্যানেজ করে লাইসেন্স বিহীন লেগুনা-সিএনজি গুলো অবাধে চলছে বলে অভিযোগ আছে যাত্রীদের।
সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাস মালিক সমিতি অবৈধ লেগুনা সিএনজি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরটিসি বরাবরে লিখিত আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক প্রতিটি থানার উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরকে অবৈধ, লাইসেন্সবিহীন, রুট-পারমিটহীন লেগুনা-সিএনজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিখিত আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না।
সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপের মহাসচিব মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সিএনজি গুলো এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আসার নিয়ম নেই। তেমন ভাবে লেগুনা গুলোর মাত্র ১৪ কি.মি. রুট পারমিট রয়েছে। রুট পারমিটহীনতার সুযোগ নিয়ে তারা লেগুনা-সিএনজি চালানোয় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার লিখিত দিয়েছি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। যার ফলে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে তারা।
সুনামগঞ্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. শামছুল ইসলাম বলেন, আমরা লাইসেন্সবিহীন লেগুনা, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।
সুনামগঞ্জ বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জে ৬শ’র মতো লেগুনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪২টি লেগুনার লাইসেন্স রয়েছে। তাছাড়া তাদের মাত্র ১৪ কি.মি. চলাচলের পারমিট রয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই নানা কর্মসূচি দিয়ে ভোগান্তি ডেকে আনে। তবে আমরা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। গতকালও (সোমবার) ১৯টি মামলা দায়ের করেছি।

Top