মাতারবাড়ীতে পানি বন্দি পাঁচ’শ পরিবার, বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে অাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা

36278268_2000707859953041_6667711717998329856_n.jpg

অাবু বক্কর ছিদ্দিক,মহেশখালী:

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ’শ অধিক পরিবারের লোকজন দীর্ঘ দিন ধরে পানি বন্দি রয়েছেন । মাতারবাড়ীতে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ার সুবাদে ইউনিয়নের চতুর্দিকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে জাইকা ও কোল-পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী । কিন্তু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে অাগে যে সমস্ত স্লুুইচগেট ও চিংড়ি ঘেরের পলবোট ছিল তা সম্পুর্ন বন্ধ করে দিয়েছে কোল-পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ । এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় পুরো মাতারবাড়ীই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এতে অন্তত পাঁচ’শ অধিক পরিবার বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে গেছে । উক্ত পরিবার গুলোর প্রায় ২০ হাজার নারী পুরুষ সিমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন । পানি বন্দি থাকা লোকজন গুলো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন , তারা দীর্ঘ দিন যাবত পানির সাথে বসবাস করে অাসলেও তাদের কে কোন ধরনের ত্রাণ দিয়ে সহযোগিতা করেনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কোন এনজিও সংস্থা । এতে অারো বেশী কষ্টকর হয়ে পড়েছেন দুর্ভোগে থাকা অসহায় পরিবার গুলো । তারা অারো বলেন , মাতারবাড়ীতে বড় বড় দুইটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২৬ শ একর জায়গা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অাবদারে সাড়া দিয়ে অকাতরে দিয়ে দিয়েছেন মাতারবাড়ীর মানুষ গুলো । তাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও খুশী হয়েছেন মাতারবাড়ীর মানুষের প্রতি । এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাতারবাড়ীর মানুষকে সব কেত্রে অগ্রাধীকারের সুযোগ দিলেও এক শ্রেণির দালাল সিন্ডিকেট সাধারন জনগনের অধিকার বঞ্চিত করে নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন । শুধু তাই নয় গত গ্রীষ্মে দুই প্রকল্পের বাইরে শত শত একর লবণ মাঠ পানির অভাবে চাষ করতে পারে নি স্থানীয়রা । তার পরও বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না জমি হারা কর্ম হারা মাতারবাড়ী মানুষ গুলোর । একজন ভিক্ষুকও সারা দিন ভিক্ষা করে অন্তত রাত্রে বাড়ীতে এসে অারাম করে ঘুমানোর চেষ্টা করে । কিন্তু সে অারামের ঘুম টুকুও কেড়ে নিল মাতারবাড়ীর প্রায় পাঁচ’শ পরিবারের নারী পুরুষের । চলতি বর্ষার বৃষ্টির পানি অার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে এখন স্বপ্নের সিঙ্গাপুর খ্যাত মাতারবাড়ীতে বন্যার সৃষ্টি হয়ে বিশ হাজার নারী পুরুষ এক মাস যাবত পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন । এতে বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে অাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবন রয়েছে বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল । কোল-পাওয়ার কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানালেন ভোক্তভোগীরা । সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাতারবাড়ী দক্ষিণ রাজঘাট ও ফুলজান মোরা এলাকার মানুষের কষ্ট অার স্কুল মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের অসুবিধা সহ রান্নাবান্না করতেও ভীষণ দায় হয়ে পড়েছেন তাদের । রাঙ্গাখালী বাঁধের উপর কোল-পাওয়ার কর্তৃক স্লুুইচগেট নির্মাণের বরাদ্দ দিলেও বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ায় তা এ বর্ষায় অার নির্মাণ করা যাচ্ছে না বলে জানালেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ । তবে অাপাতত পানি নিষ্কাশনের জন্য শীঘ্রই পলবোটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি ।
এদিকে এব্যাপারে একই কথা জানালেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মাষ্টার রুহুল অামিন । তিনি বলেন,মাতারবাড়ীর জলাবদ্ধতার কথা ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা অাওয়ামীলীগের সভাপতি সহ উচ্ছপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের কে অবহিত করা হয়েছে । তারা অতি শীঘ্রই এব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে অাশ্বাস দিয়েছেন ।

Top