চিড়িয়াখানায় বিনোদনের অন্তরালে অশ্লীলতা

36063999_493002461117539_1091151147516821504_n.jpg

সিয়াম প্রধান, রংপুর সদর প্রতিনিধি:;

দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল একজোড়া কপোত-কপোতি গাছের আড়ালে বসে আছেন। একজনের কাঁধে অন্যজনের মাথা। বিড়বিড় করে কথা বলছেন। পাশ দিয়ে অন্যান্য বিনোদন পিপাষুরা যাচ্ছেন। সেদিকে তাদের ভ্রূক্ষেপ নেই। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই প্রশ্ন-কি চান? পাল্টা প্রশ্ন-কি করছেন এখানে? উত্তর এলো- কিছু না। দু’জন গল্প করছিলাম। একজনের নাম হামিদ(ছদ্ম),তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্র।অন্যজন আঁখি(ছদ্ম)। রংপুর শহরে দু’জনের বাসা। একই এলাকার মেসে থাকার সুবাদে দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠে সম্পর্ক। আঁখিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।হামিদ(ছদ্ম)বলেন, সময়-সুযোগ পেলে দু’জনে মিলে ঘুরতে আসি। ভাব বিনিময় করি।
গত শনিবার রংপুর চিড়িয়াখানায় কথা হয় তাদের সঙ্গে। শুধু এ জুটি নন। এখন একাধিক জুটিকে দেখা গেছে বসে গল্প করতে। এর মধ্যে কেউ কেউ যেমন ছিলেন শালীন তেমন অনেককে দেখা গেছে অশালীন। এক কপোত-কপেতিকে দেখা গেছে একেবারেই অশ্লীল কাজে লিপ্ত। প্রেমিকের উরুতে বসে আছে প্রেমিকা, লিপ টুগেদারেরও দৃশ্য দেখা যায়। অশ্লীলতার প্রসঙ্গ আনতেই বলেন, আপনি তো দেখছি ব্যাকডেটেট, নিজেকে আধুনিকতার সঙ্গে খাপ খাওয়ান দেখবেন সামনে সব ফকফকা। অথচ পার্কে ঢুকতেই চোখে পড়ে গেটে ঝোলানো সাইনবোর্ড।
তাতে লেখা- ‘পার্কের মধ্যে কোনো অনৈতিক কার্যকলাপ করা নিষিদ্ধ’। গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকলেই দেখা গেছে অনেক মানুষের আনাগোনা। চারপাশে গাছগাছালি, লেক,পার্কজুড়ে রয়েছে বেশকিছু স্থায়ী বসার বেঞ্চ। কয়েকটা বাদে প্রায় সবগুলো বেঞ্চেই বসে আছেন তরুণ-তরুণীরা। শুধু স্থায়ী বেঞ্চ নয়, গাছের নিচে, ঘাসের ওপরে অনেকে বসে আছেন। তারা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। অনেকেই পূর্ব-নির্ধারিত সময় হিসেবে নিজের মানুষ নিজের বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন এখানে। আর এই সব মানুষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একদল ফেরিওয়ালা ব্যবসায়ী।
আবার তারা বলে আমরা এখানকার প্রহরী। চিড়িয়াখানার ঘুরতে আসা মানুষের জন্য কেউ পানি, বিভিন্ন ধরনের চিপস, কোল্ড ড্রিংকস, আমড়াসহ বিভিন্ন জিনিস ফেরি করে বিক্রি করে বেড়ায় চিড়িয়াখানার ভিতরে, বাহিরের তুলনায় দামও দু-তিন গুন বেশি। ঘুরতে আসা মানুষকে পুঁজি করে বেশকিছু ভিক্ষুককেও দেখা গেছে এখানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফেরিওয়ালা জানান, সকাল থেকে শুরু করে ৫ টা পর্যন্ত ভিড় থাকে বেশি । তখন ঘুরতে আসা মানুষগুলোর বেশির ভাগই দেখা মেলে বিভিন্ন গাছের আড়াল-আবডালে। তাদের মধ্যে অনেকে কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত থাকে। দিনের বেলায় ঘুরতে আসা মানুষগুলোর মধ্যেও কিছু স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েদের দেখা যায় লাজ-শরম বাদ দিয়ে সকলের সামনেই বেহায়াপনা করতে। কেউ কেউ এমন কিছু কাজ করে যে তাদের লজ্জা না লাগলেও তাদের পাশ দিয়ে যারা চলাচল করে তারা লজ্জা পান। বিশেষ করে চিড়িয়াখানায় পরিবারসহ যাওয়া লজ্জা জনক কাজ।
চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, প্রকৃতির সুন্দরের টানে সবুজে ঘেরা এই চিড়িয়াখানাতে ঘুরতে আসি, তবে এখানে আসা কিছু মানুষ মাঝে-মধ্যে যেসব কাজকর্ম করে তাতে নিজেদেরই এখানে আসতে লজ্জাবোধ হয়।
এক ছাত্রীকে প্রশ্ন করলে জানায়, বন্ধুর সঙ্গে এখানে ঘুরতে এসেছে সে । যেখানেই চোখ যায় শুধু দেখা যায় জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে সব তরণ-তরুণীর দল। যেন এক যুগলের মেলা।।

Top