ওষুধ সংকটে যশোর জেনারেল হাসপাতাল: মিলছে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামও

36129559_1766983896720993_6299137128102100992_n.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
সবুজ হোসেন (২৮) প্রতিপক্ষের হাতে আহত হয়ে ঈদের আগের দিন শুক্রবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি যশোর সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের ছেলে।
তাকে জরুরি বিভাগে নিলে ক্ষতস্থান ড্রেসিংয়ের জন্য ওয়ার্ড বয় রোগীর স্বজনদের ফার্মেসি থেকে পভিসেভ ও
হেক্সাসোল আনতে বলেন। কিন্তু তাড়াহুড়া করে স্বজনরা টাকা না আনায় প্রথমে গরম পানি ও পরে নরমাল
স্যালাইন দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে মুছে ব্যান্ডেজ করা হয়। একই সমস্যায় পড়েন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হাশিমপুরের রাজা,সাংবাদিক মিটনসহ অনেকে। শুধু ড্রেসিং এর মালামাল না, হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগে ওষুধ সামগ্রীর ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরের পথ্য সামগ্রী দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ওষুধ, লিলেন সামগ্রী ও গজ ব্যান্ডেজ শেষ হয়ে গেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সাড়ে তিন কোটি টাকার দরপত্রে জটিলতার কারণে ওষুধ সামগ্রী সংকট দেখা দিয়েছে বলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার রতন কুমার সরকার জানিয়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, বর্তমানে সরকারি ইডিসিএল সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়ে প্রতিষ্ঠান ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। দরপত্রের জটিলতা নিরসনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ মাসে সমাধান হলে জুলাই থেকে হাসপাতালে সকল মালামাল থাকবে।
সূত্র জানায়, যশোরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার রোগীদের আশা ভরসার স্থল হলো যশোর
২৫০ শয্যা হাসপাতাল। সরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। বহিঃবিভাগে গড়ে চিকিৎসা সেবা নেন ৯ শ’ থেকে ১ হাজার রোগী। স্বনামধন্য হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত পাওয়ায় যশোর ছাড়াও নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা জেলার অধিকাংশ মানুষ এখানে আসেন। উদ্দেশ্য একটাই অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়া।
চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে এই হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ ক্রয় করে। বর্তমানে হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ দামি কোন ইনজেকশন, ওষুধ, লিলেন সামগ্রী ও গজ ব্যান্ডেজ নেই। হাসপাতালের সার্জারি, মেডিসিন, হৃদরোগ, গাইনি, অর্থোপেডিকস, শিশু,পেয়িং, লেবার ওয়ার্ডের একাধিক রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, এসব
ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে যৎসামান্য ওষুধ দেয়া হয়। অধিকাংশ ওষুধ ও আনুষঙ্গিক
জিনিসপত্র বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এন্টিবায়োটিক সেফট্রাইঅকজন, সেফ্রাডিন, সেফিক্সিম, সেফুরক্সিমসহ পেটে গ্যাস ভাবের জন্য চিকিৎসায় প্রদেয় পিপিআইয়ের কোনো ট্যাবলেটই নেই। নেই ম্যাট্রোনিডাজল, ক্লিনডামাইসিন,এমোক্সসাসিলিন গ্রুপের কোনো ওষুধও। এছাড়া সিটিরিজিন, ইটোরাক, ইসোরাল, মন্টিলুকাস, সালবিউটামলসহ আরও প্রায় ১৫টি গ্রুপের ওষুধ। ফুরিয়ে গেছে পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্যামিক্যাল রি-এজেন্ট। এমনকি সার্জিক্যাল ওয়ার্ডেও নেই গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যাথেটার, ক্রেপ ব্যান্ডেজ। চিকিৎসার জন্য অতি প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল গ্লোপসটিও রোগীর স্বজনদেরই এনে দেয়া লাগে।
এদিকে ভর্তি হওয়া রোগীদেরকে বাসা থেকে বালিশ, বালিশের কাভার, মশারী এনে বেডে থাকতে হয়।
কেননা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের দরপত্রের মালামাল দিয়ে হাসপাতাল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুনের প্রথম পর্যন্ত পরিচালনা হয়েছে। এই মালামাল শেষ হয়ে।যাওয়ার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দরপত্রের অনুমোদন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার কারণে সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে, দরপত্রের অনুমোদন না হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমএসআরের ৬ গ্রুপের দরপত্র আহবান করে।
২৮ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিলো। ৩১ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৫২টি সিডিউল কিনেছিলেন। কিন্তু
দরপত্রের দিন বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে অনেক ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন বলে দাবি করা হয়েছিলো। দরপত্রে বাধা দেয়া ও অনিয়মের দাবিতে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজ, আতিকুর রহমান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৬ গ্রুপের কাজের জমাকৃত দরপত্র বাতিল পূর্বক পুনরায় দরপত্র আহবানের দাবি জানান। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনু সরকারি আদেশ না মেনে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদ অবৈধভাবে আঁকড়ে রেখে এমএসআরের ৬ গ্রুপের তিন কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. রওশন আনোয়ারকে প্রধান করে ৩ স

Top