মৌসুমি ফলের উপকারিতা

IMG_20180623_012439.jpg

মোঃ সিফাতুল্লাহ:
এখন ফলের মৌসুম। আমাদের সব ধরনের ফল খেতে হবে এবং তা আমরা অবশ্যই যাচাই করে খাবো। আমাদের আশপাশ গ্রাম, নিজেদের গাছ, গ্রামের ছোট বাজার কিংবা বাগান থেকে সংগ্রহ করা ফলই সবচেয়ে নিরাপদ হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। ফল আমাদের খেতেই হবে এবং তা অবশ্যই বিষমুক্ত নিরাপদ ফল।

ফল পুষ্টির ভান্ডার, ফল পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফলের আকর্ষণীয় রঙ এবং গন্ধে এর পুষ্টির নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেলস্ এবং ফাইবার যা মানুষের সুস্থ থাকার জন্য অতি জরুরি। ফল না খেয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। পুষ্টিবিদদের মতে- প্রতিদিন যে ব্যক্তি অর্ধেক প্লেট ফল এবং অর্ধেক সবজি খেয়ে থাকে তাদের খাবার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। ফলে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ফলিয়েট (ফলিক এসিড) এবং ফাইটো কেমিক্যালস্ যা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলের পটাশিয়াম মানুষের হার্টকে সুরক্ষিত রাখে এবং শরীরের রক্তপ্রবাহ সঠিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এই পটাশিয়াম কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করে। উঠতি বয়সের বাচ্চাদের পটাশিয়াম খুবই জরুরি যা তাদের হাড় ও দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

ফলে রয়েছে ফলিয়েট ( ফলিক এসিড) যা রক্তের লোহিতকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। মায়ের শরীরে ফলিয়েটের ঘাটতি থাকলে শিশুর ব্রেনের বৃদ্ধি এবং গঠন বাধাগ্রস্ত হয় ফলে শিশুর বিভিন্ন বুদ্ধিগত সমস্যা যেমনঃ- কম বুদ্ধি, হাবাগোবা, স্মরণশক্তি কম হওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
ফলে খুব কম পরিমাণ ক্যালরি ও চর্বি থাকে। এটি সাধারণ চিনির একটি চমৎকার উৎস।

ফলে আঁশ যেমন কিছু দেশি আম, জাম, কাঁঠাল, তরমুজ, খেজুর ইত্যাদিতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। এই সকল আঁশ শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

এখন ফলের মৌসুম। আমাদের দেশে প্রত্যেক মৌসুমে কম বেশি ফল পাওয়া যায়। এবং এই ফল গ্রীষ্মকালে বেশি পাওয়া যায়। এসব ফল প্রচুর ভিটামিন ও খাদ্যপ্রাণে ভরপুর। ফল আমাদের খেতে হবে এবং তা অবশ্যই বিষমুক্ত নিরাপদ ফল। তাহলেই বুদ্ধি এবং শক্তিতে আমরা সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারব অন্যথায় সম্ভব নয়।

Top