স্বরুপে ফিরেছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট পার্ক, পর্যটকদের ভিড়

Untitled-1-1.jpg

দিদারুল আলম(জিসান)কক্সবাজার :

দীর্ঘদিন পর আবারো স্বরুপে ফিরেছে কক্সবাজারে নির্মিত বিশ্ব মানের বিনোদন কেন্দ্র ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট পার্ক। এখন প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভীড় করছে পার্কটিতে। শুধু তাই নয়, ভিন্ন মাত্রার এই পার্কে ঘুরে বেড়াতে ভুল করছেননা স্থানীয়রাও। বিশেষ করে পর্যটন নগরীতে শিশুদের জন্য কোন ধরনের বিনোদনের কেন্দ্র না থাকায় এটির কদর বেড়েছে সবার কাছে। সব মিলিয়ে ভ্রমন পিপাষু মানুষগুলোর জন্য এই পার্কটি নতুন বার্তা বয়ে আনবে বলে আশা করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার পার্শ¦বর্তী ফরিদপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি বাবুল খন্দকার ও কহিনুর আক্তার রানু বলেন, যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা দুরে ভ্রমনের জায়গা হলো কক্সবাজার। এখানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ছাড়া দেখার মত আর কিছু নেই। তবে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট পার্ক দেখে মন জুড়িয়ে গেলে। ভাললাগার অনেক কিছু রয়েছে এই পর্কে।
একই মতামত জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন স্থানীয় দর্শনার্থীরা। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই বিনোদন পার্ক কক্সবাজারকে বদলে দিতে পারবে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ জুন দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বিশ্ব মানের এই পার্কটি নির্মাণ করেন বিশিষ্ট পর্যটন উদ্যোক্তা এবং চলচিত্র প্রযোজক মরহুম মোঃ নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যান। পার্কটির যাত্রা শুরুর পর প্রথমে বেশ আলোচনায় চলে আসে। জনপ্রিয়তায় হয়ে উঠে আকাশছোঁয়া। দুর দুরান্ত থেকে দেশী-বিদেশী পর্যটক ছাড়াও স্থানীয় মানুষদের বাড়তি বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নেয় ইন্টারন্যাশনাল এমিউজম্যান্ট পার্ক। নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর পার্কটি ঝিমিয়ে পড়ে বেশ কয়েকবছর যাবত। পরবর্তীতে পরিবারের প্রধানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে বর্তমানে পার্কটির হাল ধরেন মরহুম নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যানের জামাতা নুর উদ্দিন ইমরান। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের রামু-চেইন্দা এলাকায় ১শ’ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এ পার্ক। আন্তর্জাতিকমানের পার্কটি স্থাপনের পর থেকে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের চেহারাই অনেকটা বদলে গেছে বরে মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে পার্কে অত্যাধুনিক মুভিং রেস্টুরেন্ট সুইমিং পুল, ঝরণা ঘর, লেক, ঝরণা ছাড়া, বাগান, মিনি চিড়িয়াখানা, আধুনিক জিমনেসিয়াম, মিনি শিশু পার্ক, মৎস্য খামারসহ আরো বেশি অবকাঠামোর নির্মাণ করা হয়েছে।
দেশে এই প্রথম এ ধরনের বিশাল এলাকাজুলে স্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিকমানের এই পার্ক। পার্কটি দেশের প্রধান পর্যটন স্পট কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা লোকজনের জন্য বাড়তি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে এসেছে।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট পার্ক এন্ড রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনার পরিচালক তরুণ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী নুর উদ্দিন ইমরান জানান, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্তর্জাতিকমানের প্রথম এমিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণ করেছিলেন আমার শশুর মরহুম নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যান। তিনি এ পার্ক নিয়ে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষনে ভিন্ন কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সে লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী সব নতুনত্ব নিযে বিনোদন পার্কটি শুরুর কয়েক বছর পর আমার শশুর মৃত্যু বরণ করলে পার্কটির কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। এর দীর্ঘ সময় পর আবারো মরহুম শশুরের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য হাল ধরেছি। এখন কক্সবাজার পর্যটন নগরীর বিশেষজ্ঞ জন সহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এই বিনোদন পার্কে নতুন কিছু করে করে দেখানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পার্কটির নতুন পরিচালক।

Top