কর্ণফুলীতে পানির নিচে ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়:

IMG_20180613_191024.jpg

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তলিয়ে গেছে।

কিছুতেই শিক্ষার্থীরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ের প্রবেশ কিংবা শ্রেণীকক্ষে যেতে পারছেনা।

এমনকি,বিদ্যালয়ে যাতায়াতের নেই কোনো সুযোগ। মাঠে এখনো রয়ে গেছে জলাবদ্ধতা ও ময়লার জঞ্জাল। অনেকে সাপের ভয় পাচ্ছে।

কামরুল হাসান নামে স্থানীয় যুবক জানায়, একতলা একটি ভবন প্রায় একটু বৃষ্টি হলেই ডুবে যায়। বর্ষার সময়ও বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায় প্রায়।

তবুও নেই কোন পানি নিঃষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা পানি কমিয়ে ফেলার কোন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগ।

অভিভাবক শাহেনা আক্তার বলেন, বন্যা ছাড়াও একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের চারদিকে পানি থই থই করে।

ছেলে পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে পাঠান না তিনি।

আরেক অভিভাবক সালেহা আক্তার বলেন,বহুবার দেখেছি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে এসে দেখে যায় কিন্তু সমাধান নেই।

দিন দিন এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক শত মাত্র। জনবহুল এলাকা হিসেবে অধিক ছাত্রসংখ্যা হওয়ার কথা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, পানির কারণে মাঠে তাঁরা খেলতে পারছে না। এ ছাড়া ক্লাস রুমে পানি হাটু ও বুক সমান। তাই বাধ্য হয়ে স্কুল ছুটি ঘোষনা করেছে”।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন,উপকূলের কিনারে চরপাথরঘাটা এলাকা। চারদিকে পানি বেষ্টিত জনপদ। তবে স্কুল কলেজে ও পানিতে ডুবে থাকা বড়ই দুঃজনক।

এলাকার মানুষের অসচেতনা ও পানি নিঃষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এ সমস্যা প্রকট হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, প্রায় বৃষ্টি হলেই এ সমস্যা ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অফিস কক্ষ ও শ্রেণীকক্ষে হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। যদিও দুটি ভবন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক এম মঈন উদ্দীন জানান, মূলত চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের তিন দিকে খাল ঘিরে রেখেছে। একদিকে বহমান নদী কর্ণফুলী। যে কারণে প্রতিদিন জোয়ারের লোনা পানিতে বিধৌত হয় কয়েকটি গ্রাম।

তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি আর আবহাওয়া খারাপ হলে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় সাথে সাথে গ্রামের মহিলাদের কষ্টও বাড়ে।

তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে দ্রুত পর্যাপ্ত ড্রেনের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান।

Top