অন্ধকারে জ্বলবে আলো

received_464085967364963.jpeg

জাহেদুর রহমান সোহাগ:

প্রাকৃতিক নিয়মে সূর্যাস্ত হয়,আবার রাত পেরিয়ে পূর্ব আকাশে উদয় হয়। তখনো ঘুম ভাঙেনা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক,দারোয়ানের। এতে ভোর বেলা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলে অফিস,দালান-কোটার ভিতরে বাইরের লাইট। অপচয় হয় বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের এই অপচয় রোধ করতে অভিনব এক উদ্ভাবনি প্রকল্প নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্থান করে নিল রাঙ্গামাটির জেলার কাউখালী ডিগ্রী কলেজ।
প্রর্দশিত প্রকল্প ” অন্ধকারে জ্বলবে আলো” ।
রাঙ্গামাটি জেলার কুমার সুমিত রায় জিমনেশিয়ামে ৩ দিনব্যাপী ৩৯তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় জেলা পর্যায়ে প্রকল্পেটির অবস্থান ছিল মেলার নয় নম্বর স্টলে। প্রকল্পের স্টলের চতুর্দিকে সাদা-কালো রঙিন বেলুনে সুসজ্জিত জলসায় শিক্ষার্থী ও দর্শকের ভীড় ছিল সর্বাক্ষনিক।
পাঁচজনের প্রচেষ্টায় নির্মিত প্রকল্পটির দলনেত্রী ১ম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইদা হাসান রিমি থেকে জানা যার প্রজেক্ট তৈরির গোপন রহস্য । মুলমন্ত্র হচ্চে সার্কিটে বিসি৫৪৭ এনপিএন ট্রাঞ্জিস্টরের ব্যবহার। একটা এনপিএন ট্রাঞ্জিস্টর সুইচ করতে হলে পজিটিভ চার্জ দরকার হয় সেজন্য সেন্সর হিসেবে এলডিআর বা লাইট ডিপেন্ডেন্ট রিসিস্টর ব্যবহার করা হয়। এটি এক ধরণের ফটো রিসিস্টর।এলডিআর এর রেজিস্ট্যান্স বা রোধকত্ব তার ওপরের আলোর উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে।যখন এলডিআর এর উপরে আলোর উপস্থিতি বেড়ে যায়, তখন এলডিআর এর রিসিট্যান্স অনেক কমে শূন্যের কোঠায় চলে যায়। আবার যখন আলো কমে যায় তখন এর রোধকত্ব বেড়ে যায় এবং প্রায় ১ মেগা ওহমের উপরে চলে যায়। ট্রাঞ্জিস্টরে পজিটিভ বায়াস দিতে একটা ১০০ কিলো ওহমের ভলিউম বা পটেনশিওমিটার ব্যবহার করতে হয় এবং এলডিআর দিয়ে গ্রাউন্ড বায়স তৈরি করা হয। যখন এলডিআর এর উপরে আলো পড়ে তখন রোধ কমে যায় এবং পজিটিভ চার্জ ট্রাঞ্জিস্টর সুইচ না করে গ্রাউন্ডে চলে যায়। আর এলইডি বন্ধ থাকে।আবার এলডিআরে ছায়া পড়লে এলডিআর এর রোধ বেড়ে যায় এবং পজিটিভ চার্জ আর গ্রাউন্ডে না যেয়ে বেজ সুইচ করে। আর এলডি (লাইট) জ্বলে ওঠে।
প্রকল্পের উপনেত্রী ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিকুন্নাহার আরিফা বলেন ; ” বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ অপচয় রোধে প্রজেক্টটি কোম্পানি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হলে অনেকাংশ বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহযোগী হবে আমাদের এই প্রকল্প। অন্য ৩জন সহকর্মী হলো বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিশন তালুকদার,অমর সিং তালুকদার,কিরনা চাকমা। সার্বিক পরামর্শ ও প্রেষণা দেন কলেজের জীববিজ্ঞান শিক্ষক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন ; তাদের প্রচেষ্টা ও সৃজনশীলতা বহিঃপ্রকাশে আজকের প্রকল্প। তারা ভাবনার মূল্যায়নের সুযোগ পেলে আরও নতুন কিছু করার সাহস পাবে।
কাউখালী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল কাদের তালুকদার বলেন ; তাদের মাধ্যমে কলেজের সুনাম বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে ।আমরা সবসময় তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাব ।তারা ভবিষ্যৎ আরও ভালো কিছু করবে আশা করি এবং শুভকমনা তাদের প্রতি সর্বক্ষন ।

Top