দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাজারে লাল টসটসে লিচু

IMG_20180609_144706.jpg

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সারাদেশে রসালো মধু ফল হিসেবে পরিচিত লাল টসটসে লিচু দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাজারে ভরে গেছে। বাজারে মধু ফল দেখলেই মন জুড়িয়ে যায় ক্রেতার। স্থানীয় জাতের চেয়ে চায়না-থ্রি আর রাজশাহীর লিচুই ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। এসব লিচুর দামও বেশি। এর পাশাপাশি সাতকানিয়ার পুরানগড়ের দুলু সিকদার বাগানের লিচু অন্যতম। সিকদার বাগানটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ লিচু বাগান। এই লিচুর সুনাম রয়েছে পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে। এছাড়া বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বাঁশখালীর কালিপুরের লিচু। পাইকাররা লিচু গাছ থেকে পেড়ে সোজা বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে। লাল টসটসে টাটকা লিচু এই অঞ্চলের হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলা শহরের প্রধান বাজারগুলোতে রাজাশাহীর লিচুর আসা শুরু হওয়ায় সিকদার বাগানের লিচু ছাড়া স্থানীয় জাতের লিচু কম বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা সিকদার বাগানের বলে ক্রেতাদের অন্য জাতের লিচু ধরিয়ে দিচ্ছে। এতে ঠকছেন ক্রেতারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি ফল লিচু বিক্রির জন্য সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়েছে। দোকানগুলোতে দেদারছে লিচু বিক্রি চলছে। নানা স্বাদের লিচু বিক্রিতে জমে উঠেছে একাধিক বাজার। ব্যবসায়ীরা রাজশাহীর ১শ লিচুর দাম ২২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। সেখানে স্থানীয় বাগানের লিচু বিক্রি করছে ১০০-১৫০ টাকায়। তবে স্থানীয় জাতের লিচু শেষ পর্যায়ে। নি¤œ আয়ের লোকজন কম দামে পাওয়া এখানকার বাগানে উৎপাদিত লিচুই নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। কেরানীহাটের খুচরা ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, এ বাজারে প্রতিদিন নানান জাতের প্রায় ১০ হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীর লিচুর আলাদা একটি স্বাদ রয়েছে। প্রচুর স্বাদে ভরা রাজশাহীর লিচুর ভরপুর বাজার। তাই স্থানীয় বাগানের লিচু সপ্তাহখানেক ধরে কম বিক্রি হচ্ছে। তবে দুলু সিকদার বাগানের লিচু প্রচুর মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে বেশি। প্রতিদিন দোহাজারী আড়ত থেকে রাজশাহীর লিচু এনে ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। এতে আয় হচ্ছে প্রচুর। কেরানীহাটে ক্রেতা সাবের হোসেন জানান, স্থানীয় জাতের অধিকাংশই লিচুই টক ও পোকায় আক্রান্ত। টক হওয়ায় মানুষ এগুলি খেতে চাই না। দাম বেশি হলেও আমি রাজশাহীর ও সিকদার বাগানের লিচুই প্রায় সময় বাসায় নিয়ে যায়। অপর ক্রেতা রাশেদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর লিচুতে যে স্বাদ রয়েছে, তা অন্য লিচুতে পাওয়া যায়না। এছাড়া সিকদার বাগানের লিচুতেও রয়েছে প্রচুর স্বাদ। দাম একটু বেশি হলেও আমি এসব লিচুই বাসায় কিনে নিয়ে যায়। মৌসুমের শুরুতে প্রথম পর্যায়ে এখানকার বাজারে চায়না-থ্রি লিচু পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই মানুষ রাজশাহীর লিচুই বেশি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এই দু’জাতের লিচুই বাজারে বেশি চাহিদা রয়েছে। সাতকানিয়ার পুরানগড়ের লিচু চাষি দুলু সিকদার জানান, তার বাগানে প্রায় ৫০০টি লিচুগাছ রয়েছে। গাছে ফুল আসার পর থেকে বেশকিছুদিন কষ্ট করে পরিচর্যা করতে হয়েছে। এতে আল্লাহর রহমতে ফলনও ভালো হয়েছিল। তবে লিচু পরিপক্ষ হওয়ার আগে বাতাসে অনেকটাই ক্ষতি হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় কম বিক্রি হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শোয়েব মাহমুদ বলেন, এবার সাতকানিয়ায় ৪০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। উপজেলার চরতী, এওচিয়া, মাদার্শা ও পুরানগড়ে সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয়। ফলনও ভালো হয়েছে। তৎমধ্যে পুরানগড়ের সিকদারের লিচু বাগানটি সর্ববৃহৎ। লিচুগুলি অনেক সু-স্বাদু হওয়ায় এলাকায় এর জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

Top