ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে মহাভোগান্তীর আশঙ্কা

received_419022325232972.jpeg

তানজীল শুভ, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল ঢাকা মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের ২৫ কিলোমিটার খানাখন্দে পরিপূর্ণ। সড়কের অনেক স্থানে দেবে গেছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যানবাহনের যাত্রী ও চালক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ঈদ সামনে রেখে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত কাজ চালাচ্ছে মাদারীপুর সড়ক বিভাগ।
খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে- বরিশাল ঢাকা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার অংশ মাদারীপুর সড়ক বিভাগের অধীনে। ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরে সদর উপজেলার সোমাদ্দার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের বর্তমানে বেহালদশা।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্র জানা গেছে- চলতি বছর মার্চ মাস থেকে বরিশাল ঢাকা মহাসড়কের মস্তফাপুর থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে।
কিন্তু দেখা গেছে- ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বড়ৈতলার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটার অংশ খানাখন্দ থাকায় সিলকোট করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙ্গা থেকে বড়ৈতলার বাকি পাঁচ কিলোমিটার সড়ক এখনো বেহাল। এ অংশে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত ও বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে। টেকেরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজৈর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। সড়কের টেকেরহাট বাসস্ট্যান্ড, সাধুর ব্রিজ, ঘটকচর, মস্তফাপুর, রাজৈর অংশে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্ত। এছাড়াও অধিকাংশ ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কে গর্ত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার ঘটকচর সেতু, রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সেতু, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইতলা এলাকার সেতুসহ বেশ কয়েকটি সেতুর গোড়ায় পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্তমানে সমাদ্দার অংশের পর থেকে সংস্কার কাজ চলছে।’
সোনালী পরিবহনের চালক ইলিয়াস আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা। অস্থায়ীভাবে ইট, পাথর দিয়ে মেরামত করলেও বেশি দিন টিকছে না। ঈদে এ সড়ক পথে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হবে।’
যাত্রী হারুন হাওলাদার বলেন, ‘সড়কটি এমনিতেই ছোট। এর মধ্যে আবার খানাখন্দে ভরা। এর কারণেই আমাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। সড়কটি ঈদের আগে সংস্কার না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে কয়েকগুণ।’
মাদারীপুর স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন) কমিটির সদস্য কুমার লাভলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে গেলে যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগে পড়েন। আমরা দেখছি সড়ক বিভাগ এই সড়কের কাজ তেমন করছে না। নামমাত্র সংস্কার করছে।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুন নবী তরফদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঈদের আগে এ সড়কের কাজ প্রায়ই শেষ করে ফেলব। তবে বৃষ্টি হলে আমাদেরই বা কী করার। তাই এখন পুরোদমে কাজ চলছে। সড়কের কোথাও এখন গর্ত নেই।
ইটের খোয়া আর পাথর দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। এখন সড়কে ওভার লেনের কাজ চলছে। আশা করছি ঈদের আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

Top