থামছেনা বালু উত্তোলন; দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে

IMG_20180605_004826.jpg

আব্দুল মুতালিব ভুইয়া,সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার পাহাড়ি খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশ কয়েক বছর যাবৎ খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন সমস্যা দেখা দিলেও এবারই প্রথম নদীটির দুই পাড়ের ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন ও সুরমা ইউনিয়েনের রবার ড্যাম, মহব্বতপুর, টিলাগাও, গিরিসনগর, আজবপুর, টেংরাটিলা, আলীপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। ইতিমধ্যে খাসিয়ামারা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন প্রায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নস্থ আলীপুর বাজার ও বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি এবং নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সরেজমিনে দেখা যায়, নদী গর্ভে বিলীন হয়েগেছে আলীপুর বাজারের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ জমি ও নদীর তীরবর্তী ১৫টি বসতবাড়িসহ ফসলিজমি। নদী ভাঙ্গন দিনদিন ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি পাওয়ায় আলীপুর বাজার ও নদী তীরবর্তী বসতবাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। খাসিয়ামারা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে স্টিলবডি নৌকায় বোঝায় করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বালু বোঝায় স্টিলবডি নৌকা পর্যায়ক্রমে একটার পর একটা আসা যাওয়া করছে। বালু মহাল লিজ দেওয়ার ফলে চলতি বছরে প্রতিদিন অপরিকল্পিতভাবে নদীর পাড় ঘেঁষে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর পাড় সংলগ্ন বালু উত্তোলন করার ফলে নদী ভাঙ্গনের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এদিকে খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে আলীপুর সমাজকল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধ করাসহ খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এলাকার স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আন্দোলনে নামার হুসিয়ারী দিয়েছেন তারা। খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলীপুর বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। তারা নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে আলীপুর বাজারটিকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলী বলেন, নদী ভাঙ্গনে আলীপুর বাজার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বাজারের ভিটেমাটি হারিয়েছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি। নদীপারের বাসিন্দা সাদেক মিয়া বলেন, বালু উত্তোলনের নামে আমাদের সর্বনাশ করা হচ্ছে। অভিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হোক। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ঝুকিপূর্ন স্থানগুলোতে ব্লক বসানোর দাবি জানাচ্ছি। সেইসাথে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ বলেন, খাসিয়ামারা নদীর বালু মহাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ইতোমধ্যে খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, খাসিয়ামারা নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে মিডিয়ার বিভিন্ন রিপোর্ট প্রশাসনের নজরে এসেছি। এটি জেলা প্রশাসন কর্তৃক ইজারাকৃত বালু মহাল। ইতোমধ্যে এসিল্যান্ড কর্তৃক এটি ইনকোয়ারি করা হয়েছে। ইনকোয়ারির প্রতিবেদন আসুক তারপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top