সেতুর অভাবে দুই থানার ৩৫টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ।

IMG_20180604_020357.jpg

রিপন মিয়া,শেরপুর প্রতিনিধি মৌলভীবাজার: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পাশেই মৌলভীবাজার জেলার খলিলপুর ইউনিয়ন। দুই জেলার সীমান্তজুড়ে বরাক নদী। বরাক নদীর এপারে হবিগঞ্জ ওপারে মৌলভীবাজার। এই নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সীমান্ত এলাকার প্রায় ৩৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একটি সেতুর অভাবে ওই এলাকার লোকজন চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ আধুনিকতার নানা ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওই এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য বাঁশের একটি সাঁকো রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সাঁকো পাড় হতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কোমলমতি শিশু- কিশোর ও বৃদ্ধাদের। প্রতিবছর বরাক নদীর ওপর দীর্ঘ ৩০০ মিটার বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে খরচ হয় লক্ষাধিক টাকা। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সংশ্নিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও সেতুটি পায়নি নদী-তীরবর্তী মৌলভীবাজার অংশের কেশবচর, সাবটিয়া, দেওয়াননগর, হলিমপুর, ঘোড়ারাই, কাটারাই, কাঞ্চনপুর, চানপুর, নামুয়া, খলিলপুর ও সাদুহাটি এবং হবিগঞ্জ অংশের ফরিদপুর, নোয়াহাটি, সিটফরিদপুর, ধর্মনগর, আলমপুর, নাজিমপুর, ফরাসতপুর, বখশিপুর, মুকিমপুর, সিছনপুরসহ উভয় জেলার ৩৫ গ্রামের মানুষ। এ কারণে অর্থনৈতিক, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে উভয় জেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।

গত বছরের ১৫ আগস্ট মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন ও হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মুনিম চৌধুরীকে অতিথি করে উভয় জেলার বাসিন্দাদের উদ্যোগে সভা করা হয়েছিল। তারা উভয়েই সেতুটি নির্মাণ করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। নবীগঞ্জ উপজেলার আইশকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক- বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বরাক নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে। খলিলপুর ইউনিয়ন মৌলভীবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে থাকায় নবীগঞ্জ অংশের ওইসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বল্পসময়ে যোগাযোগ সুবিধাজনক। তবে নদীটির ওপর সেতু না থাকায় মুমূর্ষু রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নদীর ওপারের নবীগঞ্জবাসীর দাবী, এলাকার মানুষের ভোগান্তি হতে মুক্তি দিতে অবিলম্বে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক।।
এ ব্যাপারে মাননীয় এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।।

Top