ইউনুস-বাদশার বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন বিসিসির ৪নং ওয়ার্ড বাসিন্দারা

IMG_20180603_160459.jpg

তানজীল শুভ,বরিশাল প্রতিনিধি:
আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে আগ্রহী অন্তত ৫ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এই তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও কমিউনিস্ট পার্টিও রয়েছে।
অথচ গত নির্বাচনে দুই প্রার্থীরা মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম বাদশাকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. ইউনুস মিয়া।
কিন্তু এবারের নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে ভোটাররা। যিনি নির্বাচিত হয়ে সর্বদাই ওয়ার্ডবাসীর পাশে থাকবেন।
ভোটারদের অভিযোগ- ভোটারদের অভিযোগ কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বাদশা এই ওয়ার্ডটি থেকে এর আগে মো. ইউনুস মিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই ওয়ার্ডবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেননি। যে কারণে পরবর্তীতে নির্বাচনে বরিশাল মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি মো. ইউনুসকে বিজয়ী করে প্রতারণা জবাব দিয়েছে।
অবশ্য ইউনুসও বিজয়ী হয়ে একই পথে হাটার অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়লাঘাট নামক এলাকায় বসবাস করার ভোটাররা তার ওপরে নাখোশ।
এমন পরিস্থিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাউনিয়া থানা শাখার সহ-সভাপতি হাফেজ মো. আবুল বাশার বাদশা, কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গ সংগঠন ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সুমন দত্ত এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মৃত এমদাদ শরীফের ছেলে মো. একরাম হোসেন রিমন শরীফের প্রার্থীতার খবরে ওয়ার্ডবাসী নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন।
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ি- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বার ওয়ার্ডে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৭শ’র মত। তবে ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের সময় ওই ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ছিলো ৭ হাজারের বেশি। ওই নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বর্তমান কাউন্সিলর মো. ইউনুস মিয়া ও সাবেক কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বাদশা।
মাত্র ১২১ ভোটের ব্যবধানে ওই সময় পরাজিত হয়েছিলেন বাদশা। তিন হাজার ৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন ইউনুস।
ওই ওর্য়াডের একাধিক ভোটারের দাবি হচ্ছে- গত প্রায় পাঁচ বছরে অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন কাউন্সিলর ইউনুস মিয়া। তিনি এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন করেননি। বসে বসে গড়েছেন অর্থ-সম্পদের পাহাড়। বিশেষ করে বর্ধিত এলাকা মহাবাজের বাসিন্দাদের অভিযোগ হচ্ছে- নির্বাচিত হওয়া পরে ইউনুস কোন যোগাযোগ রাখেনি।
এমনকি এলাকারও কোন উন্নয়নে তার কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে তার ওপরে ভোটারদের ক্ষোভের মাত্রাটা বেশি কাজ করছে।
ওই ওয়ার্ডের সাহেবের পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব বলেন, ইউনুসকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তার পরে কোন যোগাযোগ রাখেনি। এমনকি এই এলাকার একটি মাত্র সড়ক ভেঙে গেলেও সংস্কারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
যদিও এসব অভিযোগের কোন প্রমাণ নেই দাবি করে কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর ইউনুস মিয়া বলেন- বিগত সময়ে এই ওয়ার্ড থেকে তিনবার নির্বাচন করেছি। যার মধ্যে দুই বারই কাউন্সিলর হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৩ সালে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে প্রথম হয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম কমিশনার ছিলাম। এর পর ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মত কাউন্সিলর হয়েছেন।
ইউনুসের ভাষায় তিনি এই ওয়ার্ডে যে উন্নয়ন করেছেন তা গত ১০ বছরেও কেউ করতে পারেনি। এখন এই ওয়ার্ডটিতে তাকালে অবহেলিত কেউ বলতে পারবে না। সুতরাং আগামী নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।
এদিকে এদিকে ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের অপর কাউন্সিলর প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম বাদশাও ইতিপূর্বে আরও দু’বার নির্বাচন করেছেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তিনি বিএনপি নেতা ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের হাত ধরে দল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
ওয়ার্ডের ভোটারদের দাবি ২০১৩ সালে বাদশার পরাজয় অনেকাংশে তরান্বিত হয়েছিল দল বদলের কারণে। কারণ ওই ওয়ার্ডটি বিএনপির ভোটার বেশি বলে বিষয়টি শুরু থেকে শোনা যাচ্ছিল। যে কারণে সাবেক কাউন্সিলর বাদশার দলবদলের বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি ভোটাররা।
তবে আ’লীগের ক্ষমতার গত কয়েক বছরে চিত্রপট পাল্টে গেছে। বিএনপিপন্থী কাউন্সিল ইউনুসও উন্নয়ন প্রশ্নে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাদের উভয়ের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে ভোটররা।
কিন্তু সাবেক কাউন্সিলর বাদশা বলছেন- কাউন্সিলর থাকাকালে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টাই করেছি। সবার সুযোগ-সুবিধা এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তাছাড়া ওয়ার্ডের বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজমান তা আমার আমলে ছিলো না। এছাড়াও ওয়ার্ডে ৬৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি।

Top