ভিক্ষা করে দুই ছেলে-মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন অাক্কেল অালি

IMG_20180602_181604.jpg

মো: তানভীর অাহম্মেদ রনি:
সংসার চালাতে কত কিছুই না করতে হয় মানুষকে। আর সেই সংসার চালাতে এবার থালা হাতে পথে ভিক্ষা করতে বসতে হয়েছে জালোকাঠি জেলার নলচিটি থানার কাটি পাড়া গ্রামের নয়াব অালি চকিদারের ছেলে অাক্কেল অালি’কে।

তার জীবন যুদ্ধে শত ঘাত -প্রতিঘাত । তবুও থেমে নেই অাক্কেল অালির বেচে থাকার যুদ্ধ। হতাশা , দুঃখ, দূর্দশা ,অভাব, অনটন ,যেন অাক্কেল অালির পরিবারের নিত্যদিনের সাথী। দুই ছেলে এক মেয়ের জনক হন। কিন্তু জীবন থেকে অবসর নিতে না পেরে, জীবন বাচাঁনোর তাগিদে ভিক্ষা ভিত্তিকে পেশা হিসাবে বেছে নেন।

অাক্কেল অালিকে ভিক্ষা ভিত্তিকে কেন পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন প্রশ্ন করলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ভিক্ষা করা খারাপ কাজ, ভিক্ষা করতে মন চায়না কিন্তু পেটতো মানে না। কোনটা ভাল কোনটা খারাপ । তিনি বলেন, ভিক্ষা করা ছাড়া আমার অন্যকোন উপায় নেই কারণ আমার দুই ছেলে এক মেয়ে।
‎অারো বলেন, বড় মেয়ে অালপনা অাক্তার(০৮) অার সফিকুল সুমন (০৬) গাজীপুরের ১৬ নং ওয়ার্ডের অাল জামিয়া দারুল কুরঅান মাদ্রাসায় লেখা পড়া করে। অারেক ছেলে শহিদুল ইসলাম শাহিন (০৩)। সংসার চালানোর জন্য নেই কোন জমা জমি, নেই আগের মত শারীরিক শক্তি, যে শক্তি দ্বারা শ্রম বিক্রি করে পরিবারকে বরণ পোষন করবো । তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করি। আপনারাতো সাংবাদিক, আমাকে নিয়ে পেপারে একটু লেখবেন । যদি কোন দয়াবান ও দানবীর লোক আমাকে একটু সাহায্য করে ।

গ্রামের বাড়িতে বসতভিটা না থাকার কারণে গ্রামের মায়া ত্যাগ করে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ১৬ নং ওয়ার্ডের ভূগরা এলাকার এক বস্তিতে অাস্রয় নেন অাক্কেল অালি। বর্তমানে সেখানেই এক মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে তার দুই ছেলে-মেয়ে ।

Top