ঘোড়াশালের নামকরনের আদি ইতিহাস

34268667_465834230513623_4028368617123872768_n.jpg

মো: আকতারুজ্জামান, নরসিংদী প্রতিনিধি ;🐴
পূর্বকালে ঘোড়াশাল নামে কোন গ্রাম ছিল না । তখন এ এলাকাটি চরপাড়া ,টেকপাড়া,টেংগরপাড়া ,বিনাটি,করতেতৈল,রাজাব ও চামরাব, নামে এক একটা ক্ষুদ্র পল্লী ছিল । প্রায় সাড়ে তিনশত বছর আগের কথা,দিল্লীর সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে টেকপাড়ায় শেখ গোলাম মোহাম্মদ নামে এক ক্ষমতাধর বিচক্ষন ব্যক্তি বাস করতেন । দিল্লীর রাজ দরবারেও তাঁর নাম সুপরিচিত ছিল । ঐ সময় ঈশা খাঁর বংশধর শরিফখান শরিফপুরের জমিদার ছিলেন ।শরিফ খান জমিদার হলেও একজন স্বাধীন নরপতি ছিলেন । কর পাওয়া ব্যাতীত জমিদারীর অভ্যন্তরীন ব্যাপারে মোগল সম্রাটের হস্তক্ষেপ করার তেমন কোন অধিকার ছিল না ।শরিফখানের প্রজা মোহাম্মদ রফির পুত্র জমিদার শরিফ খানের বিরুদ্ধে দিল্লির রাজ দরবারে এক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন । এ অভিযোগের বিচারকে কেন্দ্র করে জমিদার শরিফখানের সাথে দিল্লির রাজ দরবারের চরম বিরোধ দেখা দেয় । দিল্লির সম্রাটের লিখিত ফরমানে শেখ গোলাম মোহাম্মদ উক্ত বিবাদ নিষ্পত্তি করে দিল্লির সম্রাটের সাথে শরিফ খানের সন্ধি করিয়ে দেন ।শেখ গোলাম মোহাম্মদের এই কার্যতৎপরতা ও বিচক্ষনতায় সম্রাট আওরঙ্গজেব ও জমিদার শরিফ খান উভয়ই অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন ।এ কাজের পুরষ্কার সরুপ সম্রাট আওরঙ্গজেব, শেখ গোলাম মোহাম্মদকে একটি তেজি ঘোড়া ও অনেক মূল্যবান একটি শাল উপহার দেন । জমিদার শরিফখান স্বীয় পালিতা কন্যা চাঁদ বিবিকে শেখ গোলাম মোহাম্মদের দ্বিতীয় পুত্র শেখ গোলাম নবির সহিত বিবাহ দেন এবং বিবাহের উপহার স্বরুপ চরপাড়া . টেকপাড়া,টেংগরপাড়া , বিনাটি,করতেতৈল,রাজাব ও চামরাব নামে এক একটা ক্ষুদ্র পল্লীগুলো প্রদান করেন । সম্রাট প্রদত্ত ঘোড়া আর শাল দেখার জন্য দলে দলে লোক শেখ গোলাম মোহাম্মদের বাড়িতে আসত । আগুন্তকগণকে কোথায় যাও প্রশ্ন করা হলে তারা বলতো ঘোড়া আর শাল দেখতে যাই । সেই থেকে শেখ গোলাম মোহাম্মদের বাস গ্রাম ও বিবাহের উপহার স্বরুপ প্রাপ্ত ক্ষুদ্র গ্রামগুলোর সমষ্টিই ঘোড়াশাল নামে পরিচিত হতে থাকে এবং তাঁর পুত্র গোলাম নবীর সময় এলাকাটি ঘোড়াশাল নামে অভিহিত হয় ।

Top